পেকুয়ায় সালাহউদ্দিনের গণমিছিলে জনস্রোত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৪ বার
পেকুয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদের গণমিছিলে মানুষের ঢল

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কক্সবাজার-১ (চাক-পেকুয়া) আসনে নির্বাচনি উত্তাপ যেন নতুন মাত্রা পেল রোববার বিকেলে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনি গণমিছিলে পেকুয়াজুড়ে নেমে আসে মানুষের ঢল। স্থানীয়দের ভাষায়, পেকুয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এ ধরনের বিশাল ও স্বতঃস্ফূর্ত গণমিছিল আগে দেখা যায়নি। দুপুর গড়াতেই উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল এবং পায়ে হেঁটে দলে দলে পেকুয়া উপজেলা সদরের দিকে আসতে থাকেন।

রোববার বিকেল চারটায় পেকুয়া আলহাজ কবির আহমদ চৌধুরীর বাজার থেকে শুরু হয় এই গণমিছিল। শুরুতেই জনস্রোতের চাপে পুরো বাজার এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নারী, তরুণ, প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে মিছিলটি দ্রুতই উৎসবমুখর রূপ নেয়। বানৌজা সড়ক ধরে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে মিছিলটি সন্ধ্যার দিকে পেকুয়া সাকুরপাড় স্টেশনে গিয়ে পূর্বনির্ধারিত পথসভায় মিলিত হয়।

দুপুর থেকেই পেকুয়া উপজেলা সদরের চৌমুহনী ও আলহাজ কবির আহমদ চৌধুরী বাজার এলাকায় মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। স্থানীয় দোকানদার ও পথচারীরা জানান, বিকাল চারটার আগেই পুরো উপজেলা সদর কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা নেতাকর্মীরা নিজেদের এলাকায় তৈরি করা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিলে যোগ দেন। কোথাও ধানের শীষ প্রতীক, কোথাও বিএনপির চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি, আবার কোথাও প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের ছবি নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

গণমিছিলে অংশ নেওয়া মানুষের কণ্ঠে ছিল পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা। ‘ধানের শীষে ভোট দিন’, ‘সালাহউদ্দিন আহমদ এগিয়ে চলুন, আমরা আছি আপনার সঙ্গে’—এমন নানা স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পেকুয়ার আকাশ-বাতাস। অনেককে দেখা যায় দলীয় গান গেয়ে, কেউ কেউ নেচে-গেয়ে ভোটের আহ্বান জানাতে। উৎসব আর রাজনৈতিক আবেগের মিশেলে মিছিলটি এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দেয়।

এই বিশাল গণমিছিলের অগ্রভাগে ছিল একটি ছাদখোলা জিপ। সেই জিপে দাঁড়িয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ হাত নেড়ে সাধারণ মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ, দোকানের ছাদ, ভবনের বারান্দা—সবখান থেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। স্থানীয়দের মতে, একজন প্রার্থীর প্রতি এমন আবেগী ও ব্যাপক সাড়া পেকুয়ার নির্বাচনি ইতিহাসে বিরল।

গণমিছিল শেষে সাকুরপাড় স্টেশনে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উপস্থিত জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পেকুয়ায় আজ যে ভালোবাসা ও সমর্থন তিনি পেয়েছেন, তা তার জন্য এক বিশাল শক্তি ও প্রেরণা। তিনি বলেন, ‘আজকে ধানের শীষের গণমিছিলে অংশ নিয়ে আপনারা আমার প্রতি এবং দলের প্রতি যে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তার জন্য আমি আপনাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, এই গণমিছিল প্রমাণ করেছে পেকুয়ার মানুষ পরিবর্তন চায় এবং তারা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তার বক্তব্যে স্থানীয় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও উঠে আসে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে পেকুয়ার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠ সংসদে তুলে ধরা হবে।

আগামী কর্মসূচির কথাও জানান বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, সোমবার বিকাল দুইটায় চকরিয়া বাস টার্মিনালে দলের নির্বাচনি শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। সে জনসভায় সর্বস্তরের মানুষকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যেভাবে পারেন সেখানে উপস্থিত থেকে আমাদের শক্তি ও সাহস জোগাবেন।’ তার এই আহ্বানে উপস্থিত জনতা করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে সাড়া দেয়।

স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পেকুয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদের এই গণমিছিল নির্বাচনি সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তারা বলছেন, নির্বাচনের আগে এমন বিশাল জনসমাগম সাধারণত ভোটারদের মনোভাবের একটি ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় গণমিছিলের উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও উৎসাহ বাড়ায়।

পেকুয়ার সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কথা বলে জানা যায়, অনেকেই এই গণমিছিলে অংশ নিয়েছেন নিজেদের মত প্রকাশের জন্য। এক তরুণ অংশগ্রহণকারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোটাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন। এই মিছিল তাদের নতুন করে আশাবাদী করেছে। একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, তিনি জীবনে অনেক নির্বাচন দেখেছেন, কিন্তু এ ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের ঢল খুব কম দেখেছেন।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দিক থেকেও মিছিলটি ছিল শান্তিপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়।

সব মিলিয়ে, পেকুয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদের এই গণমিছিল শুধু একটি নির্বাচনি কর্মসূচিই নয়, বরং স্থানীয় মানুষের রাজনৈতিক আবেগ, প্রত্যাশা ও অংশগ্রহণের একটি বড় প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের বাকি সময়টায় এই গণমিছিলের প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত