ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলে ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প: আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৬ বার
ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলে ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প: আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের

প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) ভোরে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইলোকোস নর্টে অঞ্চলসহ আশপাশের কয়েকটি প্রদেশ। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৮। দেশটির ভলকানোলজি ও সিসমোলজি ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পটি ছিল মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার হলেও গভীরতা এবং অবস্থানের কারণে বেশ কয়েকটি এলাকায় কম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল পাসুকুইন শহর থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ২৭ কিলোমিটার। ইলোকোস নর্টে ছাড়াও কাগায়ান, ইলোকোস সুর, ইসাবেলা ও আবরা প্রদেশে কম্পন অনুভূত হয়, ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘুম ভেঙে বহু মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং অনেকেই ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেয়।

ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অফ ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (PHIVOLCS) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে আফটারশক বা পরাঘাত আসতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, এ ধরনের কম্পন দেশটির জন্য খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়, তবে কিছু পুরনো ও দুর্বল অবকাঠামোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

ভূমিকম্পের সময় কেউ হতাহত হয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা সংশ্লিষ্ট এলাকায় যোগাযোগ স্থাপন করে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে।

ফিলিপাইন এমন এক ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানে অবস্থিত যা ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অফ ফায়ার’ নামে পরিচিত। এই অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ঘটে থাকে। রিং অফ ফায়ারের এই ভূগর্ভস্থ গতিশীলতা ফিলিপাইনসহ পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, এর আগেও ফিলিপাইনে বেশ কয়েকটি বড় মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে ১৯৯০ সালের লুজন ভূমিকম্পে কয়েকশ মানুষ নিহত হন। সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্প সেই ভয়াবহতার পুনরাবৃত্তি না করলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সরকারি সংস্থাগুলো স্থানীয় জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা ভূমিকম্প-পরবর্তী জরুরি করণীয় বিষয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।

এই ভূমিকম্পের প্রভাব সাময়িক হলেও এটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—প্রকৃতির সঙ্গে বসবাসের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং দুর্যোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। ফিলিপাইনবাসী সেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রতিবারের মতো এবারও দৃঢ় মানসিকতায় প্রস্তুত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত