আইনশৃঙ্খলা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেন আসিফ মাহমুদ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তেজনা ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার মাঝে রাজধানীর ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তেজনা ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার মাঝে রাজধানীর ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম নির্বাচনকালীন সময়ে প্রত্যাশিত রূপে দেখা যাচ্ছে না, যা তাঁরা দলের পক্ষ থেকে গভীরভাবে দুঃখজনক মনে করছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল রাজধানীর গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমাদের কিছু কেন্দ্রে প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সাড়া না পাওয়া আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি সময়মতো দায়িত্ব পালন করতে না পারে, তবে জনগণ ও ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়। দেশের নাগরিক হিসেবে প্রতিটি ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, ভোটের পরিবেশকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখা নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। কোনো নাগরিক যেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, ভোট শেষে সবাই যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন—এটি একটি মৌলিক অধিকার। “এ জন্য প্রশাসনকে কঠোর এবং দায়িত্বশীলভাবে তৎপর থাকতে হবে। নির্বাচনের দিনটি শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী দলের জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার ও দেশের গণতন্ত্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ,” তিনি বলেন।

আসিফ মাহমুদ আরও তুলে ধরেন, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগে, বিশেষ করে গতকাল রাতের সময় নির্বাচনী এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিনি নিজ চোখে দেখেছেন যে, ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটাররা যথাযথ নিয়ম মেনে ভোট দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “ভোটার উপস্থিতি সকালবেলায় কিছুটা কম ছিল, তবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীদের মনোভাব প্রভাবিত হতে পারে, তবে তা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে না।”

এনসিপি মুখপাত্র আরও মন্তব্য করেন যে, দেশের ভোটারদের মধ্যে স্বাধীনভাবে এবং নিরাপদভাবে ভোট প্রদানের অভ্যাস তৈরি করতে প্রশাসনের কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “নির্বাচন কেবল প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার Arena নয়, এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূলমন্ত্র। যদি ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু না থাকে, তবে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারবে না।”

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “কিছু কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের উপর হামলার ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। নির্বাচনী সময় এ ধরনের কার্যক্রম ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। প্রশাসনকে এমন পরিস্থিতিতে আরও সতর্ক হতে হবে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখাতে হবে।”

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাজধানীসহ সারাদেশের ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাজার হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, ভোটাররা জানান, সকাল থেকেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে আসিফ মাহমুদের মত বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সঠিকভাবে বজায় রাখা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কেবল উপস্থিত থাকার চেয়ে বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। “প্রত্যেক ভোটার যেন ভোট দিতে গিয়ে ভয় পায় না, সেই পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। জনগণকে আস্থা দিতে হবে যে তাদের ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে এবং নির্বাচনের ফলাফল সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হবে। এই দায়িত্ব প্রশাসনকেই নিতে হবে।”

স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তা ও ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসাররা জানান, কেন্দ্রগুলোতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোন বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে না। তবে আসিফ মাহমুদ মনে করিয়ে দেন, “যদি প্রশাসন অগোচরে দায়িত্ব থেকে সরে আসে, তবে তা ভোটারদের আস্থা হ্রাস করবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বিপদজনক।”

তিনি বলেন, ভোটের নিরাপত্তা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়; এটি জনগণেরও দায়িত্ব যে তারা ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করবে। একই সঙ্গে প্রশাসনকে ভোটার ও পোলিং এজেন্টদের সুরক্ষা দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। “এবং যদি কেউ নির্বাচনী নিয়ম ভঙ্গ করার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এজন্য ভোটের প্রতি সকলের সচেতনতা অপরিহার্য,” তিনি মন্তব্য করেন।

আসিফ মাহমুদের অভিযোগ ও সতর্কবার্তা একদিকে প্রশাসনকে মনে করিয়ে দিচ্ছে তাদের দায়িত্বের প্রতি, অন্যদিকে ভোটারদের মনে করাচ্ছে যে, তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই যে, ভোটাররা নিজের ভোট দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নিক। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এই জন্যই আমাদের নজরদারি ও প্রশাসনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি শেষকথায় বলেন, “আজকের নির্বাচন শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিজয় বা পরাজয় নয়। এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সত্যিকারের পরীক্ষা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন এবং ভোটারদের সম্মিলিত দায়িত্বের মাধ্যমে আমরা একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারব।”

কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত তথ্য ও স্থানীয় ভোটারদের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী, এই নির্বাচনের দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করা কঠিন। আসিফ মাহমুদের বক্তব্য সেই প্রেক্ষাপটে জনগণকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, যে ভোটের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করার দায়িত্ব প্রত্যেকের, বিশেষ করে প্রশাসনের, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনার মাধ্যমে পরিষ্কার হয় যে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তাদের যথাযথ তৎপরতা না থাকলে ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। আসিফ মাহমুদের মন্তব্য একপাশে সতর্কবার্তা, অন্যপাশে ভোটার ও প্রশাসনকে দায়িত্বপ্রাপ্ত করার আহ্বান হিসেবে কাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত