চট্টগ্রামে ভোটে উচ্ছ্বাস, বিশ্ব দেখলো আমরাও নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে পারি : চট্টগ্রামের ডিসি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৭ বার
চট্টগ্রামে ভোটে উচ্ছ্বাস, বিশ্ব দেখলো আমরাও নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে পারি : চট্টগ্রামের ডিসি

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে নানা আলোচনা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশার মধ্যেই চট্টগ্রামে ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিয়া। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিশ্ব দেখলো—আমরাও অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল। এ জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের প্রস্তুতি ছিল ব্যাপক। সকাল থেকে নগরী ও জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বিশেষ করে নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি এবং তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। কেন্দ্রগুলোর বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রশাসক বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে ভোটের দিন সকালে সেই গুজবকে উপেক্ষা করে জনগণ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এক দিনের এই ভোট উৎসবের প্রস্তুতি ছিল দীর্ঘ দিনের। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। ভোটারদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি প্রশাসনকে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও বিরক্তি প্রকাশ করেননি। বরং ভোট দিতে পারার আনন্দই ছিল তাদের মুখে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও ভোটগ্রহণে সাময়িক ধীরগতি দেখা দিলেও বড় ধরনের কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক ব্যাখ্যা করে বলেন, এবারে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের অনেককে আলাদা করে বুঝিয়ে দিতে হয়েছে। ফলে কিছু কেন্দ্রে সময় বেশি লেগেছে। তবে তা সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেনি বলে তিনি দাবি করেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের প্রথম সাত ঘণ্টায় চট্টগ্রামে প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। দিনশেষে তা ৬০ শতাংশের কাছাকাছি যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত হার নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই জানা যাবে।

প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী বড় ধরনের কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাছ থেকেও গুরুতর অভিযোগ আসেনি বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, একটি নির্বাচনের মূল্যায়ন কেবল প্রশাসনিক বিবৃতি দিয়ে শেষ হয় না; বরং ভোটার, প্রার্থী ও পর্যবেক্ষকদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তার গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, সকালে বয়স্ক ভোটারদের উপস্থিতি ছিল বেশি, আর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তরুণ ও নারী ভোটারদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেক কেন্দ্রে প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণদের উচ্ছ্বাস ছিল স্পষ্ট। তারা এটিকে নাগরিক দায়িত্ব ও অধিকার হিসেবে দেখছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতও সক্রিয় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় কেন্দ্রগুলোর আশপাশে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়াতে সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে একটি আত্মবিশ্বাসী সুর থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজরও কম নয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রশাসনের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণও সমানভাবে জরুরি।

চট্টগ্রামের ভোটারদের অনেকেই বলেছেন, তারা চান উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা কয়েকজন নারী ভোটার জানান, নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হলেও কোনো ভয় বা চাপ অনুভব করেননি।

দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় ছিল। কোথাও কোথাও ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলেছে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে। নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় চায়ের দোকান, বাজার ও পাড়া-মহল্লায় ছিল প্রাণবন্ত আলাপ।

জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রশাসনের প্রস্তুতির প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ চূড়ান্ত ফলাফল ও পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে মূল্যায়নের কথা বলেছেন।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে ভোটগ্রহণ ঘিরে দিনটি ছিল ব্যস্ত, প্রত্যাশাময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে তা শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়েও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। দিনশেষে গণনার ফল ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়াই নির্ধারণ করবে এই নির্বাচনের সামগ্রিক মূল্যায়ন। তবে ভোটের দিন চট্টগ্রামের কেন্দ্রগুলোতে যে দৃশ্য দেখা গেছে—দীর্ঘ লাইন, ধৈর্যশীল ভোটার, নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে উৎসবের আমেজ—তা নিঃসন্দেহে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত