প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে তিনটি আসনে ভোটগ্রহণ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি কুমিল্লা-৮, শরিয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। তিনি অভিযোগ করেন উল্লিখিত আসনগুলোর অধিকাংশ কেন্দ্রে অনিয়মের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্যে অনেক ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি। ভোটের পরিবেশ প্রত্যাশিত মাত্রায় ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। দলীয় পর্যবেক্ষণ ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ভোট স্থগিত করে পুনরায় গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
জামায়াতের অভিযোগে বলা হয় কিছু কেন্দ্রে এজেন্টদের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও ভোটারদের প্রবেশে অনানুষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে দলটির দাবি। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল প্রকাশ করেনি। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন লিখিত অভিযোগ পেলে তা যাচাই-বাছাই করা হবে বিধি অনুযায়ী।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি জানান কমিশন প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য। কোনো কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা পুনরায় গ্রহণের প্রশ্ন এলে তা নির্দিষ্ট বিধিমালার আলোকে বিবেচিত হবে। ফলে বিষয়টি এখন তদন্ত ও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
কুমিল্লা-৮, শরিয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ আসন তিনটিই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব আসনে একাধিক বড় দল ও জোটের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী। নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। তবে বিচ্ছিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন নির্বাচনকালীন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। প্রায় প্রতিটি বড় নির্বাচনে বিভিন্ন দল কেন্দ্রভিত্তিক আপত্তি তোলে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রমাণের শক্তি। যদি বাস্তবিক অনিয়ম প্রমাণিত হয় তবে পুনঃভোটের নজিরও রয়েছে অতীতে। আবার অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ তদন্তে টেকেনি। তাই এখন নজর থাকবে কমিশনের অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার দিকে।
ভোট স্থগিতের দাবি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমত প্রভাবিত করার ক্ষেত্রেও এমন দাবি ভূমিকা রাখে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগে কমিশনের অবস্থানই হবে নির্ধারক। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ের পরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটের কারণে। ফলে প্রতিটি কেন্দ্রের ভোট কেবল সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব নয় বরং বৃহত্তর নীতিগত প্রশ্নেও প্রভাব ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে অনিয়মের অভিযোগ আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
সারাদেশে ভোট গণনা প্রক্রিয়া চলমান। কমিশন জানিয়েছে সব কেন্দ্রের ফল একত্রিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এদিকে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে। কুমিল্লা-৮, শরিয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ আসনের বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত এখন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা নির্ভর করছে অভিযোগ যাচাইয়ের ফলাফলের ওপর। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। কমিশনের পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ভোট পুনরায় গ্রহণের প্রয়োজন আছে কিনা।