মালয়েশিয়ায় অবৈধ অবস্থানে বাংলাদেশিসহ ৪৯৪ অভিবাসী আটক

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৩১ বার
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অবস্থানে বাংলাদেশিসহ ৪৯৪ অভিবাসী আটক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মালয়েশিয়ায় চলমান বৈধতা অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাতে দেশটির সেরিকামবাগান এলাকার পুত্রা পারমাই সেলেসা অ্যাপার্টমেন্টে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৪৯৪ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এই অভিযানের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ফের একবার তাদের অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের বার্তা দিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জিম) এর উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) জাফরি এমবক তাহা এক বিবৃতিতে জানান, রাত ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই সমন্বিত অভিযানে মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের পাশাপাশি সেলাঙ্গর কুয়ালালামপুর জিম, জেনারেল অপারেশনস ফোর্স (পিজিএ), সুবাং জায়া সিটি কাউন্সিল (এমবিএসজে), ন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট (জেপিএন) এবং মালয়েশিয়ান সিভিল ডিফেন্স ফোর্স (এপিএম) অংশগ্রহণ করে।

এই অভিযানে মোট ৭৪১ জন বিদেশিকে চেক করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে কোনো বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট, ভুয়া কার্ডধারিতা, বা অন্য কোনো অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধে ৩৫৭ জন পুরুষ, ১০৭ জন নারী ও ৩২ জন শিশুকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার নাগরিক রয়েছে।

জাফরি তাহা বলেন, সেলাঙ্গর অঞ্চলের এই আবাসিক এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য একটি ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত। এখানকার বেশিরভাগ অভিবাসী স্থানীয় পাইকারি বাজার, নির্মাণ খাত ও গৃহস্থালী কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই দিনের পর দিন অবৈধভাবে কাজ করে আসছিলেন, যা অভিবাসন আইনের চরম লঙ্ঘন।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭ এর আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে দোষী সাব্যস্তদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং তাদের অনেকেরই ওপর আজীবন মালয়েশিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে।

মালয়েশিয়া সরকার দেশটির জনগণ ও নিয়োগকর্তাদের সতর্ক করে বলেছে, যদি কেউ অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় বা কাজের সুযোগ দেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনসাধারণকে আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা অভিবাসন বিভাগের হেল্পলাইনে অবৈধ অবস্থানকারী বা অনিয়মে যুক্ত বিদেশিদের বিষয়ে তথ্য দেন।

প্রসঙ্গত, চলমান সংকট নিরসনে মালয়েশিয়া সরকার ১৯ মে ২০২৫ থেকে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ‘অভিবাসী প্রত্যাবাসন কর্মসূচি ২.০’ চালু করেছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে অবৈধ অভিবাসীরা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। মাত্র ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা ও ২০ রিঙ্গিত মূল্যের একটি বিশেষ ট্রাভেল পাস নিয়ে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভিযান মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে এক ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, কারণ বহু খাতে অভিবাসী শ্রমিকরাই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন। তবে অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং বৈধ উপায়ে শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করা।

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রতি সতর্কতা জারি করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই তারা যেন অতিদ্রুত প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় ফিরে যান, অন্যথায় আইন লঙ্ঘনের দায়ে জেল ও নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

এই অভিযানের পরিণতিতে শুধু মালয়েশিয়ায় নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিবাসী প্রেরণকারী দেশগুলোতেও ফের একবার অভিবাসন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, মানবাধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা নতুন করে শুরু হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত