গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা স্থগিত, হামলা ও সহিংসতায় উত্তপ্ত শহর

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ১০৩ বার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মাসব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার এক সহিংস ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সকালে সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর সড়কে পুলিশের গাড়িতে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বেলা দেড়টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় সমাবেশস্থলে হঠাৎ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিলসহ প্রবেশ করে সমাবেশের মঞ্চে হামলা চালিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। অভিযোগ উঠেছে, এই হামলার সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের একটি অংশ ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়, ফলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার খাটিয়াগড় চরপাড়া এলাকায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এনসিপির পদযাত্রা আটকাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রথম হামলার ঘটনা ঘটায়। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আহম্মেদ বিশ্বাস, গাড়িচালক কাউসারসহ অন্তত তিনজন আহত হন। তবে আহত আরেকজনের পরিচয় রাত পর্যন্ত জানা যায়নি।

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর সদর উপজেলার গান্ধিয়াশুর এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি বহরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ইউএনও নিজেই। তার দাবি, এনসিপির ঘোষিত পদযাত্রা ও সমাবেশ বানচাল করতে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা একযোগে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। ইউএনও বলেন, “আজ গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে পদযাত্রা ও সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। এর আগেই বিভিন্ন স্থানে গাড়ি বহরে হামলা ও ভাঙচুর করে কর্মসূচি ভণ্ডুলের চেষ্টা করা হয়েছে।”

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সমাবেশস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এনসিপির নেতাদের অভিযোগ, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের একটি অংশ হামলার মুহূর্তে পিছু হটেছিল, যা সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থতার শামিল।

এদিকে ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তারা কোনো ধরনের হামলা চালায়নি। তাদের দাবি, পদযাত্রার নামে জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা রুখতে স্থানীয় জনতা নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

ঘটনার পর থেকে পুরো গোপালগঞ্জ শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মোতায়েন থাকলেও আতঙ্কে দোকানপাট আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, হামলার ঘটনার পর সমাবেশ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে হামলার বিচার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শিগগিরই নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকারি দলের ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে প্রমাণ করেছে, এ দেশে মতপ্রকাশের কোনো স্বাধীনতা নেই।”

সন্ধ্যা নাগাদ গোপালগঞ্জ সদর থানা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় মানুষজন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ আশা করছেন।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত