ইরানের পাল্টা হামলায় নিহত ৩০ ইসরাইলি পাইলট, তেলআবিব গোপন রাখছে তথ্য

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৪ বার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলায় অন্তত ৩০ জন ইসরাইলি পাইলট নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইরাকে নিযুক্ত ইরানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হাসান কাজেমি কুমি। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এই তথ্য প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, এ ঘটনা তেলআবিব সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হলেও ইসরাইল সরকার বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করছে।

হাসান কাজেমি কুমি বলেন, “এটি দখলদার ইসরাইলি শাসনের জন্য কোনো ছোট ঘটনা নয়। মূলত এত বড় ক্ষতির কথা স্বীকার করলে তাদের সামরিক সক্ষমতা ও মর্যাদার উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলেই তারা এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য গোপন রেখেছে।” তিনি আরও জানান, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এ হামলা চালিয়ে তেলআবিবের বৃহত্তর যুদ্ধ পরিকল্পনা কার্যত ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

গত ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইসরাইল প্রথমে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও আবাসিক এলাকায় হামলা চালায়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে থাকে যখন ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরাইলের পক্ষে যোগ দেয় এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা—নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইসফাহানে—বিমান হামলা চালায়।

এই আগ্রাসনের জবাবে ইরানও শক্ত প্রতিশোধমূলক আঘাত হানে। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’ নামে এক অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরাইলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একযোগে ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইরানের দাবি, এ হামলায় ইসরাইলের বিমানঘাঁটি, যুদ্ধবিমান ও প্রশিক্ষণ অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার সরাসরি প্রমাণ ৩০ জন পাইলটের মৃত্যুই বলে মনে করছেন কুমি।

যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির প্রকৃত তথ্য নিয়ে ইসরাইল সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। তবে ইরানের দিক থেকে একের পর এক দাবি আর উপগ্রহ চিত্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের তথ্য বিশ্লেষণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ক্ষতি ইসরাইলের জন্য শুধু তাৎক্ষণিক নয়, দীর্ঘমেয়াদেও বড় ধরনের সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করবে।

এদিকে সংঘাতের মাত্রা আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই ২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়, যা এখনও বহাল রয়েছে। তবে তেলের বাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বড় শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক হিসাবের উপর এই অস্থিরতা যে দীর্ঘ ছাপ ফেলবে তা বলাই যায়।

বড় ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান বারবার জানিয়ে আসছে, তারা নতুন কোনো সংঘাত চায় না, তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত এলে সমুচিত জবাব দিতে কখনো দ্বিধা করবে না। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল নিরাপত্তা সমীকরণে এই যুদ্ধবিরতি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত