প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রবাসীদের কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, প্রবাসীদের লাশ দেশে আনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তাদের পরিবারকে অনুভব করতে না হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ, কারণ তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের প্রাঙ্গণে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে নতুন দুটি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা মন্ত্রণালয়ে বসে আছি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পাঠানো অর্থের মাধ্যমে। তাই তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। প্রবাসীদের জন্য যে কোনো ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, আমরা তা নিশ্চিত করব।”
মন্ত্রী আরো বলেন, প্রবাসীরা যখন বিদেশে থাকেন, তখন তারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রত্যেক প্রবাসী দেশের একটি পতাকা হয়ে কাজ করেন। এই অবদানকে দেশের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, “প্রবাসীরা দেশে ফিরে এসে যে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেন, তা গণনা করা উচিত। আমাদের উদ্দেশ্য হলো প্রবাসী কর্মীদের এবং তাদের পরিবারের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য পূরণে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, নতুন দায়িত্বে আসার কারণে তিনি সব কিছু জানেন না, তবে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ইস্তেহার অনুযায়ী প্রবাসীদের জন্য প্রতিশ্রুত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তিনি প্রবাসীদের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া, উপসচিব ইমরান আহমদ এবং সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রবাসীদের কষ্ট ও ত্যাগকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রবাসীরা প্রায়শই পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদেশে থাকেন এবং দেশে ফিরে সমাজ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখেন। এই প্রেক্ষাপটে সরকার প্রবাসীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার বক্তব্যে বোঝা যায় যে প্রবাসীদের প্রতি সরকারের মনোযোগ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কল্যাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসীদের লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং বিনা খরচে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবাসী পরিবারগুলোকে লাঞ্ছনা বা অর্থনৈতিক বোঝা ছাড়াই প্রিয়জনকে দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এই পদক্ষেপটি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য অত্যন্ত মানবিক এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা শুধু দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন না, তারা দেশের ভাবমূর্তিতেও অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা রাখেন। তাই তাদের কর্মকাণ্ড ও ত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান করা প্রয়োজন। সরকারের এই উদ্যোগ প্রবাসীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হিসেবেও কাজ করবে।
প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে। নতুন সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে বিনা খরচে লাশ আনা, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা, প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সহায়তা এবং তাদের দেশে ফিরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন। এই পরিকল্পনাগুলি দেশের প্রবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এই মানবিক উদ্যোগ দেশের প্রবাসীদের মনে আস্থা ও নিরাপত্তার বোধ জাগিয়ে তুলবে। এটি প্রমাণ করে যে সরকারের প্রতিটি স্তর প্রবাসী কর্মীদের প্রতিকূল অবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তাদের জীবনযাত্রা ও মৃত্যু পরিস্থিতিতে সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।