ঈদের পর স্থানীয় নির্বাচন প্রস্তুতি জোরদার: ইসি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ৫২ বার
(ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা আবারও নতুন কর্মযজ্ঞের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়েও নির্বাচন কমিশনের কাজ যে থেমে থাকে না, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেছেন, ঈদের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু করবে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম সারা বছর চলমান থাকে এবং সংসদ কিংবা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও স্থানীয় সরকার পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নির্বাচন আয়োজন করতে হয়—এ কথাও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন।

রাজধানীর আগারগাঁও–এর নির্বাচন ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি আয়োজিত বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের সামনে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, কমিশনের কাজ কখনো বন্ধ থাকে না। একটি নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সারা বছর বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় কমিশনের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সব সময় সক্রিয় রাখতে হয়।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে নাকি নির্দলীয় প্রতীকে—এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশনের অপেক্ষায় রয়েছে কমিশন। আইনগত কাঠামো পরিষ্কার হলেই নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হবে। তার ভাষায়, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে আগে আইনি ভিত্তি স্পষ্ট হতে হবে, এরপর প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ভালো নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন সব সময় প্রস্তুত এবং সেই প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

নিজের বক্তব্যে তিনি গণমাধ্যমের ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের একটি বড় অংশ যেন সাংবাদিকরাই। কারণ গণমাধ্যম কমিশনের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে, ভুলত্রুটি হলে সমালোচনা করে এবং উন্নতির পথ দেখায়। তার মতে, এই সমালোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, তবে ভালো কাজেরও উন্নতির সুযোগ থাকে এবং কমিশন সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চায়।

অনুষ্ঠানে তিনটি ক্যাটাগরিতে সাংবাদিকদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পান ইকরাম-উদ দৌলা, টেলিভিশন বিভাগে কাজী ফরিদ আহমদ এবং প্রিন্ট বিভাগে আল আমিন। পুরস্কার প্রদানকালে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনুসন্ধানী ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং জনগণের আস্থা বাড়ায়। তিনি পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এদিকে জাতীয় ভোটার দিবস উদযাপন নিয়েও নতুন সিদ্ধান্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দিবসটি ২ মার্চ পালিত হলেও তা ১ মার্চে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদন পেলেই নতুন তারিখ কার্যকর হবে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এ পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পটভূমি হিসেবে জানা যায়, ২০১৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন সংস্থাগুলোর সংগঠন ফেমবোসার এক বৈঠকে সদস্য দেশগুলো জাতীয়ভাবে ভোটার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও দিবসটি চালু করা হয়। ২০১৯ সালে প্রথমবার ১ মার্চ দিবসটি পালিত হলেও একই দিনে বীমা দিবস থাকায় ২০২০ সালে তা পরিবর্তন করে ২ মার্চ নির্ধারণ করা হয়। এখন আবার ১ মার্চে ফেরানোর প্রস্তাব নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ের এই নির্বাচনগুলো জনগণের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এসব নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তারা মনে করেন, সময়মতো প্রস্তুতি শুরু করা হলে প্রশাসনিক সমন্বয়, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতাও বাড়বে। কারণ স্থানীয় পর্যায়ের ভোটে অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে। এই নির্বাচনগুলোকে অনেক সময় জাতীয় নির্বাচনের পূর্বাভাস হিসেবেও দেখা হয়, কারণ এতে ভোটারদের রাজনৈতিক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, নির্বাচন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভোট ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি ভোটারদের সচেতন করতে প্রচার কার্যক্রমও চালানো হবে, যাতে অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত হয়। কমিশনের দৃষ্টিতে, সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না; বরং রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, গণমাধ্যম ও ভোটার—সব পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এ ঘোষণাকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়মিত ও সময়মতো হলে স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি বাড়ে এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়। আবার কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক ঘোষণা দেশের নির্বাচনমুখী পরিবেশকে নতুন করে সক্রিয় করে তুলেছে। ঈদের পর প্রস্তুতি শুরু হলে প্রশাসনিক ব্যস্ততা বাড়বে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই নির্বাচনগুলো কতটা স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com