প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারতের কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জোয়াহেরুল ইসলামের মরদেহ বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে পৌঁছেছে। রবিবার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে মরদেহ আনা হয় এবং যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টে পৌঁছে তা কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
জোয়াহেরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে তাকে কলকাতার দমদমে অবস্থিত ফিনিক্স মেডিক্যাল সেন্টার প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাল্টি অর্গান ফেলিওর এবং হৃদরোগকে দায়ী করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি গত বছরের ৫ আগস্টের পর বৈধ প্রক্রিয়া না মেনে ভারতে যান এবং কলকাতার নিউটাউনে বসবাস শুরু করেন।
জোয়াহেরুল ইসলাম ২০১৭ সালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক জীবন জুড়ে তিনি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করে শেষকৃত্য সংক্রান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
ভারতীয় পুলিশের সহযোগিতায় মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় মরদেহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় টাঙ্গাইল আনা হয়। রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় নেতারা মরদেহ গ্রহণের পর বিভিন্নভাবে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন এবং রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান স্মরণ করেছেন।
মো. জোয়াহেরুল ইসলামের মৃত্যু রাজনৈতিক, সামাজিক এবং পারিবারিকভাবে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা এবং চিকিৎসার অভাব একদিকে যেমন মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছিল, তেমনই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তার উপস্থিতি অনুপস্থিতি হিসেবে অনুভূত হয়। স্থানীয় নেতারা বলছেন, জোয়াহেরুল ইসলামের মৃত্যুতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
মৃত্যুর পরে তাঁর পারিবারিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের আলোকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা তার জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। সাবেক এমপি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর সংযোগ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের উল্লেখযোগ্য অবদান তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শেষকৃত্যের সব আয়োজন দেশের প্রথা ও রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে। রাজনৈতিক সহকর্মীরা উপস্থিত থেকে মরদেহে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় নেতারা বলছেন, জোয়াহেরুল ইসলামের মৃত্যু রাজনৈতিক জীবনের একটি শূন্যতা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে তাঁর ভুমিকা পালন করার জন্য নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে গেছে।