তোমাদের স্বপ্ন পূরণে আমরা পিছপা হব না, শহীদ আবু সাঈদের শাহাদত বার্ষিকীতে জামায়াত আমিরের অঙ্গীকার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৯ বার

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

এক বছরের ব্যবধানে আবেগ আর স্মৃতিতে ভাসছে শহীদ আবু সাঈদের পরিবার, সহযোদ্ধা ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা। প্রথম শাহাদতবার্ষিকীতে আবু সাঈদকে স্মরণ করে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি শুধু আবু সাঈদকেই নয়, তার মতো বুক চিতিয়ে রক্ত দেওয়া অন্য শহীদদেরও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন।

স্ট্যাটাসে জামায়াত আমির লিখেছেন, আজ আবু সাঈদের প্রথম শাহাদতবার্ষিকী। ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতায় তাকে স্মরণ করছি। একইসঙ্গে সেই সব বীর সন্তানের কথাও স্মরণ করছি, যারা বুক চিতিয়ে জাতিকে অন্যায়ের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের উদ্দেশে অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘তোমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ। তোমাদের সঙ্গে বেইমানি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

ডা. শফিকুর রহমানের এ বক্তব্যে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট। তিনি নতুন করে জাতিকে তাদের কর্তব্য ও দায়িত্ববোধ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘জাতি যেন একবার তাদের দিকে ফিরে তাকায়, নিজের দায়িত্ব বুঝে নেয়।’ শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও জনগণকে এক হয়ে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হবে—তার এই বক্তব্যে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে।

এক বছরের মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবু সাঈদের শাহাদাত নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো তাদের ভাষায় ‘শহীদের রক্তে’ নতুন শক্তি খুঁজে নিতে চাচ্ছে, এমন ধারণাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে এই বার্তায়। বিশেষ করে জামায়াতের মতো দলগুলো নিজেদের রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও জনগণের মধ্যে পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এই আবেগ ও শহীদ স্মৃতিকে ঘিরেই।

প্রসঙ্গত, আবু সাঈদ ছিলেন ছাত্র রাজনীতির অন্যতম সক্রিয় মুখ। আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে তিনি প্রাণ হারান—যা জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে আছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শহীদের প্রতি এই শ্রদ্ধা আর প্রতিশ্রুতি শুধু আবেগ নয়, রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কৌশলও।

ডা. শফিকুর রহমানের এই স্ট্যাটাস ইতিমধ্যে দলের সমর্থক মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকে মন্তব্য করছেন, ‘শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে দলমত নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’ আবার কেউ কেউ বলেছেন, ‘তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।’

এদিকে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিকে সামনে রেখে জামায়াত তাদের নতুন প্রজন্মের কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে চায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী শক্তির নতুন জোট, আন্দোলনের নতুন রূপরেখা এবং জনগণের মধ্যে পুনরায় গ্রহণযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এমন বার্তাই হতে পারে তাদের হাতিয়ার।

শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা আর দায়িত্বের অঙ্গীকারে শেষ হয়েছে ডা. শফিকুর রহমানের লেখা, তবে এর প্রতিধ্বনি রাজনীতির ময়দানে কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত