আদালতের ওপর চাপ দিয়ে গণভোটকে অবৈধ ঘোষণা চেষ্টা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৭ বার
আদালতের ওপর চাপ দিয়ে গণভোটকে অবৈধ ঘোষণা চেষ্টা

প্রকাশ:  ০৬ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সরকারি দল আদালতের ওপর চাপ প্রয়োগ করে জুলাই সনদ ও গণভোটকে অবৈধ ঘোষণার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অতীত সরকারের পথ অনুসরণ করতে চাইলে তার দায়ভার বিএনপিকেই বহন করতে হবে। এই মন্তব্য তিনি বৃহস্পতিবার ঢাকায় জামায়াতে ইসলামের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উলামা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে করেন, যেখানে আলেম-উলামা ও ইমাম-খতিবদের সম্মান জানানো হয়।

গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম সজাগ রয়েছে এবং জুলাই বিনষ্টের চক্রান্ত কখনও সফল হতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে ফলাফল কারচুপির রহস্য ধীরে ধীরে উন্মোচন হচ্ছে। সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যই প্রমাণ করে যে, দেশি–বিদেশি শক্তির মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় কারা জড়িত ছিলেন তা জাতির সামনে প্রকাশ করা প্রয়োজন।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দেশের নেতৃত্ব প্রদানে আলেম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দকে সতর্ক থাকতে হবে যেন দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষিত থাকে।

জামায়াতে ইসলামের এই নেতা আরও উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে নির্বাচনের সঙ্গে হস্তক্ষেপের বহু নজির রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি একই ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং বা রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়, তবে তার দায়ভার বর্তমান সরকারের নিকটেই বহন করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণ ও তরুণ প্রজন্ম সচেতন রয়েছে এবং তাদের অধিকার রক্ষার জন্য যেকোনো চেষ্টার মোকাবিলা করবে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য আলেম সমাজকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই সংবেদনশীল এবং যেকোনো হস্তক্ষেপের ফলে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আলেম-উলামাদের কেবল ধর্মীয় দায়িত্ব পালন নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখা উচিত। তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রকার চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা শুধুমাত্র নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে না, বরং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, জামায়াতে ইসলামের এই নেতার মন্তব্যে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

এই ইফতার মাহফিলের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী আলেম-উলামারা বলেন, ধর্ম ও রাজনীতি আলাদা হলেও দেশের সুশাসন ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা অপরিহার্য। তারা বলেন, সাধারণ জনগণ ও তরুণ প্রজন্ম যখন সজাগ থাকে, তখন কোনও শক্তি দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে পারবে না।

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, “দেশের গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলতে হলে জনগণের সচেতনতা ও আলেম সমাজের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই সনদ ও গণভোটের মতো বিষয়গুলো যদি অবৈধ ঘোষণা করার চেষ্টা হয়, তাহলে তার দায়ভার পুরোপুরি সরকারের ওপর পড়ে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, জামায়াতে ইসলামের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা বৃদ্ধির প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত