সর্বশেষ :
কেনিয়ায় ভয়াবহ বৃষ্টি-বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ যশোরে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রশিক্ষণ বিমানের জরুরি অবতরণ লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিরাপত্তা ও সামরিক দক্ষতায় মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন নেতা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত ঈদে নতুন নোট নেই, খোলা বাজারে দাম দাড়িয়েছে আকাশছোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাজারে প্রভাব ছড়াচ্ছে হাদি হত্যার আসল খুনি নিয়ে প্রকাশ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার মত আজ থেকে বন্ধ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগে

ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশেহারা কক্সবাজারের লবণ চাষিরা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৫০ বার
কক্সবাজারের লবণ চাষি

প্রকাশ: ০৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চলতি মৌসুমের চার মাস পার হলেও উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার–এর লবণ চাষিদের জন্য এখনো নিশ্চিত হয়নি ন্যায্যমূল্য। মৌসুম শেষ হতে আর মাত্র দুই থেকে আড়াই মাস বাকি থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে চাষিদের। তাদের অভিযোগ, প্রতি মণ লবণ বিক্রি করে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সরেজমিনে উপকূলের বিভিন্ন লবণ মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। তবে বাজারে দাম কম থাকায় চাষিদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। চৌফলদণ্ডী উপকূলের বাজারপাড়ার লবণ চাষি জিয়ার খান বলেন, গত বছর তিন কানি জমিতে লবণ চাষ করে প্রায় দেড় লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। চলতি বছরও একই পরিমাণ জমিতে চাষ করলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।

জিয়ার খান বলেন, প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে তার খরচ প্রায় ৪০০ টাকা। কিন্তু বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ২০০ টাকায়। এভাবে চলতে থাকলে লবণ চাষ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

একই অভিযোগ করেছেন অন্য চাষি সিরাজুল ইসলাম। তার মতে, উৎপাদন খরচ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা হলেও বাজারে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। এতে খরচই উঠছে না। ফলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হচ্ছে।

চাষি সৈয়দ আলম জানান, টানা দুই বছর ধরে লোকসান হওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। লবণের দাম কিছুটা বাড়লে চাষিদের জন্য স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

আরেক চাষি রিয়াদুল হক বলেন, গত বছর এক বান্ডিল তেরপালের দাম ছিল প্রায় ৩ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার টাকায়। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি ও জ্বালানি খরচও বেড়েছে। কিন্তু এত খরচের পরও বর্তমানে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০০ টাকায়। তার মতে, অন্তত ৪০০ টাকা মণ হলে চাষিরা কিছুটা হলেও খরচ পুষিয়ে নিতে পারতেন।

নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন চাষিরা। এখন তারা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন। চাষি নুরুল আলম বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে তাদের একটাই দাবি—লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।

চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে একটি প্যাকেট লবণের দাম প্রায় ৪০ টাকা হলেও মাঠ পর্যায়ে চাষিদের কাছ থেকে লবণ কিনে নেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩ টাকায়। এতে চাষিদের বাঁচা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে লবণ শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশ থেকে শিল্পকারখানার জন্য আমদানি করা ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট’ স্থানীয় বাজারেও বিক্রি হওয়ায় দেশীয় লবণের দাম কমে যাচ্ছে। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি–এর সভাপতি এবং লবণ চাষি কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা আবদুল শুক্কুর বলেন, কক্সবাজারে এখন মানসম্মত লবণ উৎপাদন হলেও আমদানির কারণে স্থানীয় চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তিনি দ্রুত লবণ আমদানি বন্ধ করে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের দাবি জানান।

অন্যদিকে লবণ শিল্পের উন্নয়ন কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, মৌসুমের শুরুতে কিছুটা দেরি হলেও এখন আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। উৎপাদন বাড়লে বাজার পরিস্থিতিরও উন্নতি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জানিয়েছে, গত মৌসুমে ৬৮ হাজার ৫০৫ একর জমিতে প্রায় ২৫ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ২৭ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চার মাসে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন।

চাষিদের দাবি, দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত ও বাজার নিয়ন্ত্রণ না হলে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার লবণ চাষি বড় ধরনের সংকটে পড়বেন। তাই তারা সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত