সর্বশেষ :
কেনিয়ায় ভয়াবহ বৃষ্টি-বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ যশোরে যান্ত্রিক ত্রুটি, প্রশিক্ষণ বিমানের জরুরি অবতরণ লেবাননে হামলায় সাদা ফসফরাস ব্যবহারের প্রমাণ: এইচআরডব্লিউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ নিরাপত্তা ও সামরিক দক্ষতায় মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন নেতা সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টাঙ্গাইলের মোশাররফ নিহত ঈদে নতুন নোট নেই, খোলা বাজারে দাম দাড়িয়েছে আকাশছোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিদ্যুৎ-জ্বালানি বাজারে প্রভাব ছড়াচ্ছে হাদি হত্যার আসল খুনি নিয়ে প্রকাশ্যে সালাহউদ্দিন আম্মার মত আজ থেকে বন্ধ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগে

বেগম খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পুরস্কার নিলেন জাইমা রহমান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৫ বার
খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পুরস্কার

প্রকাশ: ০৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারীর অধিকার, শিক্ষা ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া–কে মরণোত্তর ‘অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় এক অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রয়াত এই রাজনীতিকের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

রোববার সকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন–এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন–এর হাত থেকে সম্মাননাটি গ্রহণ করেন জাইমা রহমান। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে ঘিরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, নারী অধিকারকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক ধরনের আবেগঘন পরিবেশ। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা খালেদা জিয়ার স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিল এই সম্মাননা প্রদান। তার রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্ব এবং নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের কথা স্মরণ করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। তিনি শুধু দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীদের একজনই নন, বরং দীর্ঘ সময় ধরে দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত হয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নানা চড়াই–উতরাই পেরিয়ে তিনি একাধিকবার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পথচলা অনেক সময়ই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। সামরিক শাসন পরবর্তী গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে শুরু করে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিকাশ—এসব ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা আলোচনায় এসেছে বারবার। যদিও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবু দেশের রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি বাংলাদেশের সমাজে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছিল। বিশেষ করে এমন এক সময় যখন দক্ষিণ এশিয়ার অনেক সমাজেই নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সীমিত ছিল, তখন একজন নারী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ভূমিকা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন একটি জাতির উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষা, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।

এই অনুষ্ঠানে দেশের আটটি বিভাগ থেকে মোট ৩৯ জন নারীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন নারী বিশেষভাবে পুরস্কৃত হন। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা এই নারীদের মধ্যে কেউ অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছেন, কেউ শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, আবার কেউ ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সংগ্রাম জয় করে সমাজে নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নারীদের এই সম্মাননা দেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্র বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী, শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে সফল নারী, সফল জননী, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে জীবনসংগ্রামে জয়ী নারী এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী।

বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিত্বকারী এই নারীরা নিজ নিজ এলাকায় সামাজিক উন্নয়ন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশেষ অবদান রেখেছেন। অনুষ্ঠানে তাদের জীবনসংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়, যা উপস্থিত অনেকের মধ্যেই গভীর আবেগ সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারী অধিকারকর্মীরা বলেন, সমাজে অনেক নারী নীরবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তাদের সাফল্য সব সময় আলোচনায় আসে না। তাই রাষ্ট্রীয়ভাবে এই ধরনের স্বীকৃতি তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। তবে এখনও অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়ে গেছে, যা দূর করতে সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু একটি সামাজিক বিষয় নয়, বরং একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। যখন নারীরা শিক্ষা, অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পান, তখন সেই সমাজ আরও দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যায়।

অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমান সম্মাননা গ্রহণের সময় পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই সম্মাননা তাদের পরিবারের জন্য গর্বের বিষয়। তার দাদি দেশের মানুষের জন্য কাজ করেছেন এবং গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন—এই স্মৃতি তাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অনেকেই বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মতো একটি দিনে নারীদের অবদানকে স্মরণ করা এবং তাদের সম্মান জানানো সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। কারণ এটি নারীদের প্রতি সম্মান, মর্যাদা এবং সমান অধিকারের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে।

নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তবে তারা মনে করেন, প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে আরও অনেক কাজ করতে হবে।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শুধু সম্মাননা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং এটি হয়ে উঠেছে নারীর সংগ্রাম, অর্জন এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি উপলক্ষ। সেই প্রেক্ষাপটে প্রয়াত খালেদা জিয়াকে দেওয়া মরণোত্তর ‘অদম্য নারী’ সম্মাননা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নারীর নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবেই বিবেচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত