ইরাকে শপিংমলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫০ জনের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৬ বার
ইরাকে শপিংমলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫০ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

পূর্ব ইরাকের ওয়াসিত প্রদেশের আল-কুত শহরে অবস্থিত একটি শপিংমলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরাক নিউজ এজেন্সি (আইএনএ)। বৃহস্পতিবার সকালে গভর্নর মোহাম্মদ আল-মিয়াহিকে উদ্ধৃত করে এই খবর প্রকাশ করে আইএনএ, যা পরে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে একটি পাঁচতলা বাণিজ্যিক ভবনে, যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মরত ছিলেন ও কেনাকাটা করছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে পুরো ভবনটি দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দমকলবাহিনীর সদস্যরা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার, তবে পুরো ভবনটি আগুনে ঢেকে গেছে।

রয়টার্স এই ভিডিওগুলোর সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি, তবে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা আগুনের ভয়াবহতা নিশ্চিত করেছেন। আগুনের তীব্রতা এমন ছিল যে, অনেকেই ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে যান এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অগ্নিকাণ্ডের সময় অনেকে জানালা ভেঙে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন বলেও জানা গেছে।

তবে এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। ওয়াসিত প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল-মিয়াহি জানিয়েছেন, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনায় যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে শপিংমল ও ভবনের মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

গভর্নর আরও বলেন, উদ্ধার কাজ এখনো চলছে এবং ভবনের ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইরাকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

আল-কুত শহরে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অনেক বছর পর ঘটল এবং এটি ইরাকের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরাকের বহু বাণিজ্যিক ভবন ও শপিংমল যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাবে এমন ঝুঁকিতে রয়েছে এবং এই ঘটনার পর নতুন করে এসব বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশব্যাপী শোকের পাশাপাশি ভবন নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ নীতিমালার সংস্কার নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন এবং ঘটনার দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত