প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কানের তীব্র ব্যথা রোগীদের জন্য শুধু অস্বস্তিকরই নয়, বরং উদ্বেগ ও আতঙ্কও সৃষ্টি করে। হঠাৎ শুরু হওয়া ব্যথা, সামান্য স্পর্শেই তীব্র যন্ত্রণা, এমনকি চোয়াল নাড়ালেও ব্যথার মাত্রা বেড়ে যাওয়া—এগুলো বহিঃকর্ণের সংক্রমণ বা ওটাইটিস এক্সটার্নার সাধারণ লক্ষণ। এই সংক্রমণ কানের বাইরের ত্বকের সঙ্গে হাড় ও কার্টিলেজের শক্ত সংযুক্তির কারণে দ্রুত তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে। সামান্য ফোলাভাবও কানের ভিতরে চাপ তৈরি করে, যা রোগীদের জীবনমানকে প্রভাবিত করে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে দেখা গেছে, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রতি দশ জনের মধ্যে একজন এই রোগে আক্রান্ত হয়। পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে সামান্য বেশি দেখা যায়, এবং ৪৫ থেকে ৭৫ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এটি বেশি নির্ণীত হয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে যেতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে বহিঃকর্ণের সাধারণ সংক্রমণ কখনো কখনো মারাত্মক অবস্থায় রূপ নিতে পারে, যা চিকিৎসা না করলে হাড় পর্যন্ত সংক্রমণ ছড়িয়ে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
সাধারণ রোগীর ক্ষেত্রে লক্ষণগুলোতে কানের তীব্র ব্যথা, চুলকানি ও জ্বালাপোড়া, কানে পানি বা পুঁজ পড়া, এবং কানের লতি বা বাইরের অংশ টান দিলে ব্যথা বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত। এই উপসর্গগুলো রোগীদের দৈনন্দিন কাজেও প্রভাব ফেলে এবং সামাজিক ও শারীরিক জীবনযাত্রায় অস্বস্তি সৃষ্টি করে। অনেক সময় রোগীরা কানে অপ্রয়োজনীয় খোঁচাখুঁচি, কটন বাড বা ধারালো বস্তু ব্যবহার করেন, যা সংক্রমণ আরও বাড়িয়ে দেয়। ঘন ঘন কানে পানি ঢোকাও, যেমন সাঁতার বা গোসলের সময়, সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
চিকিৎসকরা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব। তবে অবহেলা করলে সংক্রমণ গভীরে গিয়ে জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই কানে তীব্র ব্যথা, অস্বাভাবিক স্রাব বা দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি দেখা দিলে দেরি না করে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কানের যত্নে সচেতন থাকা, ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় খোঁচাখুঁচি পরিহার—এই তিনটি সহজ সতর্কতা মেনে চললে বহিঃকর্ণের সংক্রমণ অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, বহিঃকর্ণের সংক্রমণকে ছোটখাটো রোগ বলে অবহেলা করা বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। চিকিৎসা ব্যবস্থা অবহেলার কারণে সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং রোগীকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। সঠিক এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করলে, রোগীদের দ্রুত আরাম পাওয়া সম্ভব এবং শারীরিক ও মানসিক চাপ কমে।
কানের যত্ন ও পরিচর্যায় সচেতন হওয়া চিকিৎসা ক্ষেত্রে শুধু রোগ নিরাময় নয়, বরং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানোর জন্যও অপরিহার্য। দৈনন্দিন জীবনে কানের পরিচর্যা, পরিষ্কার রাখা এবং সংক্রমণজনিত ঝুঁকি কমানো রোগ প্রতিরোধের মূল হাতিয়ার। বিশেষ করে ডায়াবেটিক ও প্রবীণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিয়মিত পরীক্ষা এবং সতর্কতা অতি গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহারে, কানের তীব্র ব্যথা ও সংক্রমণকে ছোটখাটো রোগ মনে করে উপেক্ষা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ, সতর্কতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অনুসরণ করলে বহিঃকর্ণের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। রোগী ও সাধারণ জনগণকে সচেতন করা, ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় কানে খোঁচাখুঁচি এড়িয়ে চলা—এগুলো কানের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পন্থা।