হাসিনা আমলের দিবস বাতিল, নতুন পরিপত্র জারি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৫০ বার
জাতীয় দিবস নতুন পরিপত্র বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারিভাবে নির্ধারিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের নতুন পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এটি বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবরের আগের পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে। নতুন পরিপত্রে বিগত বিএনপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের মতই হাসিনা আমলের কিছু দিবস বাতিল রাখা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিবস ও জাতীয় শিশু দিবস, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস, ১৮ অক্টোবর শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেল দিবস, ৪ নভেম্বর জাতীয় সংবিধান দিবস ও ১২ ডিসেম্বর স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস পালন বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল। নতুন পরিপত্রে সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

নতুন পরিপত্রে ক-শ্রেণিতে ৫ আগস্টকে বিএনপি সরকারের পতনের দিন হিসেবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসাবে পালন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্র আবু সাঈদের মৃত্যুবার্ষিকী ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তও আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বহাল রয়েছে।

পরিপত্রে দেশের দিবসগুলো তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ক-শ্রেণির ১৭টি দিবস জাতীয় পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করতে হবে। খ-শ্রেণির ৩৭টি দিবস ঐতিহ্যগতভাবে বা সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের উদ্দেশ্যে পালন করা যেতে পারে। এই দিবসগুলোতে অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে এবং মন্ত্রীরা এতে অংশগ্রহণ করবেন। গ-শ্রেণির ৩৫টি দিবস সীমিত কলেবরে পালন করা হবে। মন্ত্রীরা উপস্থিতি বিবেচনা করবেন, তবে উন্নয়ন খাত থেকে বিশেষ বরাদ্দ থাকবে না।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সরকারি সংস্থা ও মন্ত্রণালয়গুলো অতিরিক্ত ও পুনরাবৃত্তিমূলক দিবস পালন থেকে বিরত থাকবে। এর লক্ষ্য সরকারি সময় এবং সম্পদ সাশ্রয় করা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নতুন পরিপত্র দেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। কেবল সরকারের বর্তমান নীতি অনুসরণ করাই নয়, বরং আগের সিদ্ধান্তগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মাধ্যমে রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও ঐতিহ্যগত গুরুত্ব রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এছাড়া, বিশেষ দিবসগুলোতে সরকারি উৎস থেকে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি সরকারি কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এই নির্দেশনার আলোকে আয়োজনের পরিকল্পনা করতে পারবে।

শিক্ষাবিদ ও সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক-শ্রেণির দিবসগুলো দেশের জাতির ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া খ-শ্রেণির দিবস সামাজিক সচেতনতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সম্প্রদায়িক মূল্যবোধ জাগানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

পরিপত্রের মাধ্যমে সরকার যে ধারা স্থাপন করেছে, তা সরকারের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি সরকারি কর্মসূচি ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যে একটি কাঠামো তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পরিপত্রের নির্দেশনা দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ঐতিহাসিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রতিফলিত করবে।

নতুন পরিপত্রে ৫ আগস্ট ও ১৬ জুলাই-এর মতো দিনগুলোকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করার নির্দেশনা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই প্রক্রিয়া দেশের নাগরিক ও শিক্ষার্থী সমাজে ইতিহাস সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com