সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের বক্তব্যকে ঘিরে। তিনি অভিযোগ করেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে প্রধান দায় প্রধানমন্ত্রীর। রাজধানীতে এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে এনসিপির পেশাজীবী অঙ্গ সংগঠন ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্স আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন আখতার হোসেন। সেখানে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে জাতীয় সংসদে উদ্যোগ নেওয়া এবং পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর। তার মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আখতার হোসেন দাবি করেন, সরকার গঠনের পর ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পার হলেও পরিষদ গঠন বা কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেই পরিষদের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না, কারণ জাতীয় সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যেই সরকার চাইলে উদ্যোগ নিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।

অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করতে সংবিধান সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে দেশে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দল ও নাগরিক সংগঠন সংস্কারের দাবি তুলেছে। তবে এই ধরনের সংস্কার একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হওয়ায় তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব উত্থাপন, আলোচনার মাধ্যমে মতামত গ্রহণ এবং আইনগত কাঠামো তৈরি ছাড়া বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তন সম্ভব নয়।

এদিকে সরকারপক্ষের কিছু নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এ নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার তালিকায় অর্থনীতি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনসেবা উন্নয়ন থাকলেও সাংবিধানিক প্রশ্নও ধীরে ধীরে গুরুত্ব পাচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে অনেকে মনে করছেন, সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নটি শুধু একটি দল বা সরকারের একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। বরং এটি জাতীয় ঐকমত্যের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন এবং বিরোধী দলগুলোর মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইফতার মাহফিলে উপস্থিত বক্তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্রের চর্চা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও আলোচনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলোর সমাধানে এগিয়ে আসবে।

এদিকে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সংবিধান সংস্কার নিয়ে আলোচনা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সময়োপযোগী সংস্কার রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে পারে। আবার অন্যরা বলছেন, হঠাৎ করে বড় পরিবর্তনের বদলে ধীরে ধীরে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও কার্যক্রম শুরু নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার কীভাবে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা কতটা গড়ে ওঠে, তার ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত