ঢাবি ভিসি নিয়োগে বিতর্ক, ক্ষোভ ডা. মিতুর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৪০ বার
ঢাবি ভিসি নিয়োগে বিতর্ক

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগকে ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, যিনি একইসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এই নিয়োগের পরপরই সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

বিশেষ করে মেধার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব। সোমবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এই নিয়োগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

ডা. মিতু তার পোস্টে লেখেন, “কোটা না, মেধা? স্লোগান দিয়ে প্রাণ দেওয়া জাতির বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হলেন, লাগারে লাগা ধান লাগা স্লোগান দিয়ে। কী ঘৃণ্য!” তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

এর আগে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা তরুণদের মধ্যে নতুন ধরনের সচেতনতা তৈরি করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশ কি আবার পুরোনো অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে কিনা।

তার বক্তব্যে উঠে আসে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং তরুণ সমাজের প্রত্যাশার বিষয়গুলো। তিনি লিখেছেন, বর্তমান প্রজন্ম একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ দেখতে চায়, যেখানে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

ডা. মিতু আরও বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখনও বিভিন্ন বিষয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এমনকি নিজের মত প্রকাশের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “জীবনও দিতে হতে পারে বলা যায় না। বেশি বললে কে, কখন মেরে ফেলে”—এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এদিকে, এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে সরব ছিলেন তিনি। বিশেষ করে সরকারি খেজুর বিতরণ সংক্রান্ত একটি ঘটনায় তিনি হাসনাত আবদুল্লাহ-কে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। সেই পোস্টেও তিনি প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জনসম্পৃক্ততার বিষয় তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ভিসি নিয়োগ সবসময়ই গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এই পদ শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই নয়, বরং দেশের উচ্চশিক্ষার দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করে। ফলে এই নিয়োগকে ঘিরে জনমত তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। একইসঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও জরুরি। অন্যথায় শিক্ষাঙ্গনে বিভাজন এবং আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

তবে এই নিয়োগ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি দেশের শিক্ষা ও রাজনীতির সংযোগস্থলে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত