কায়া, হেলাল, শিরিন ও ন্যান্‌সির সঙ্গে হাবিবের সংগীতযাত্রা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার
হাবিবের সংগীতযাত্রা

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলা সংগীতজগতে ফিউশন ও আধুনিকতার এক নতুন ঢেউ আনার ক্ষেত্রে হাবিব ওয়াহিদের অবদান অনস্বীকার্য। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে লন্ডনে পাড়ি জমান এই শিল্পী, দেশে ফেরার পর সঙ্গে নিয়ে আসেন এক নতুন সুরশৈলী, যা বদলে দেয় দেশের সংগীত পরিবেশকে। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপচারিতায় হাবিব ওয়াহিদ নিজের সংগীতজীবনের শুরু, লন্ডনের প্রবাসজীবন এবং লোকজ সুরসংগ্রাহকদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।

১৯৯৯ সালে লন্ডনে পাড়ি জমান হাবিব। প্রবাসজীবনে শুধু পড়াশোনা নয়, তিনি সংগীতের এক নতুন দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় পান। বাংলা লোকগানকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেন। লন্ডনে বাবার বন্ধুদের মাধ্যমে তার পরিচয় হয় কায়া-হেলালের সঙ্গে। হাবিব বলেন, “ওই বন্ধু ছিলেন আব্বার মিউজিশিয়ান। ছোটবেলায় উনি আব্বার সঙ্গে বাজাতেন।” সেই সময় হাবিব সপ্তাহান্তে একটি রেস্তোরাঁয় লাইভ পারফর্মেন্স করতেন। ইংরেজি কভার গান থেকে শুরু করে প্রবাসের বন্ধু ও হেলালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

দেশে ফেরার পর হাবিব ওয়াহিদ প্রথম হাত দেন ‘কৃষ্ণ’ অ্যালবামে, যেখানে বাংলা লোকগানের সঙ্গে পাশ্চাত্যের সংগীতের মিশ্রণ ছিল। ২০০৩ সালে পপসংগীতে নতুন স্বাদ নিয়ে আসে অ্যালবামটি। পরের বছর কায়া ও হেলালকে নিয়ে প্রকাশিত হয় ‘মায়া’ অ্যালবাম। দুই দশক পার হলেও ‘কৃষ্ণ’, ‘আমি কূলহারা কলঙ্কিনী’, ‘কালা’, ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘কুহু সুরে মনের আগুন’-এর মতো গানগুলো এখনও জনপ্রিয়।

শিল্পী শিরিনের সঙ্গে পরিচয়ও লন্ডনে। একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবার শিরিনকে শুনে মুগ্ধ হন। শিরিন তখন স্থানীয় কমিউনিটিতে “বাউল কুইন’’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০৮ সালে হাবিব শিরিনকে নিয়ে প্রকাশ করেন ব্যবসাসফল অ্যালবাম ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’। এতে ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’, ‘মনের বাগানে’, ‘ওরে আমার ময়না পাখি’, ‘শিখায়া পিরিতি’, ‘শাহজালাল বাবা’সহ একাধিক গান ছিল।

হাবিবের জন্য লোকসংগীতের মহাজন শাহ আবদুল করিমের সান্নিধ্যও গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৭ সালে হেলালের সঙ্গে সুনামগঞ্জের উজানধল গ্রামে তার সঙ্গে দেখা করেন হাবিব। তিনি বলেন, “ওনার সঙ্গে একবারই দেখা হয়েছিল। শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছিলেন।” শাহ আবদুল করিমের ‘মায়া লাগাইছে’ এবং ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ গানগুলো হাবিবের সংগীতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ন্যান্‌সির কণ্ঠের খোঁজও হাবিবের হাত ধরেই। প্রথম কাজ ছিল একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের জিঙ্গেল। এরপর ‘তোমাকে ছেড়ে আমি কী নিয়ে থাকব’ গানের ছোট অংশে কণ্ঠ দেন ন্যান্‌সি। এরপর বাংলা সিনেমার আধুনিক গানে হাবিব-ন্যান্‌সির যুগলবন্দী সুপরিচিত হয়। উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ভালোবাসব বাসব রে’, ‘পৃথিবীর যত সুখ’, ‘ডুব’, ‘মনের ভেতর’, ‘হাওয়ায় হাওয়ায় দোলনা দোলে’ ও ‘দ্বিধা’। হাবিব বলেন, “প্রতিটা সংগীতায়োজকের একটা কমফোর্ট জোন থাকে। ন্যান্‌সির সঙ্গে কাজ করা আমার সেই কমফোর্ট জোন।”

হাবিবের প্রবাসকাল এবং নতুন ও কম পরিচিত প্রতিভাদের সঙ্গে কাজ করার ধারা এখনও বজায় আছে। আরফিন রুমি, ইমরান মাহমুদুল ও প্রীতম হাসানেরা তার প্রভাব নিয়ে বহুবার মন্তব্য করেছেন। হাবিব বলেন, “আমি শুধু সমর্থন দিয়েছি। মানুষ নিজেই নিজের মধ্যে খুঁজে পায়। আমি একসময় নতুন ছিলাম। তখন কারও সমর্থন পেলেই আজকের জায়গায় পৌঁছেছি।”

বর্তমানে হাবিব ওয়াহিদ তার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য নানা ধরনের কাজ করছেন। ঈদে প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে নতুন গান ‘ইত্যাদি’। তার দীর্ঘ সংগীতজীবন, প্রবাসের অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রতিভাদের খোঁজে হাবিব বাংলা সংগীতকে আধুনিকতার সঙ্গে ধরে রেখেছেন, যা শ্রোতাদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত