যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকদের লোকেশন ডেটা কিনছে এফবিআই

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকদের লোকেশন

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) আবারও সাধারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য কেনা শুরু করেছে। বিশেষত নাগরিকদের বর্তমান অবস্থান বা লোকেশন ডেটা সংগ্রহের বিষয়টি সামনে আসায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সামনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। তিনি জানান, বিভিন্ন ফেডারেল তদন্তে সহায়তার জন্য তারা বাণিজ্যিকভাবে বাজার থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করছেন। ২০২৩ সালের পর প্রথমবার কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করলেন।

জানা গেছে, মূলত বিভিন্ন ডেটা ব্রোকারদের কাছ থেকে এসব তথ্য কেনা হয়। এই ব্রোকাররা স্মার্টফোনের সাধারণ মোবাইল অ্যাপ ও গেম থেকে ব্যবহারকারীদের অজান্তেই লোকেশনসহ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে এবং তা পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করে।

এর আগে সাবেক পরিচালক ক্রিস্টোফার রে জানিয়েছেন যে সংস্থাটি পূর্বেও তথ্য কিনত, তবে মাঝে তা সক্রিয় ছিল না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ওরেগনের সিনেটর রন ওয়াইডেন যখন প্রশ্ন তুলেন যে ভবিষ্যতে এফবিআই কি এই তথ্য কেনা বন্ধ করবে, তখন কাশ প্যাটেল কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি। তিনি উল্লেখ করেছেন, দায়িত্ব পালনের স্বার্থে এফবিআই ‘সব ধরনের বৈধ উপায়’ ব্যবহার করতে পিছপা হবে না।

কাশ প্যাটেল আরও দাবি করেন, তারা যেসব তথ্য কিনছেন তা সংবিধান ও বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য এসব তথ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে সিনেটর ওয়াইডেন প্রক্রিয়াটি সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, এটি মার্কিন সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী, যা নাগরিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে, এড়ানোর একটি কৌশল মাত্র। সাধারণত কারো ব্যক্তিগত তথ্য পেতে হলে আদালতের পরোয়ানা বা সার্চ ওয়ারেন্টের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আইনি দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে সরাসরি বাজার থেকে ডেটা কিনে গোয়েন্দা সংস্থা বিচারিক নজরদারি এড়িয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যের মূল উৎস হলো আধুনিক বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি, যা ‘রিয়েল-টাইম বিডিং’ নামে পরিচিত। এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর অবস্থান ও রুচি অনুযায়ী বিজ্ঞাপন প্রদানের ছলে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করে, যা পরবর্তীতে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করা হয়।

এফবিআই-এর দাবি অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে তথ্য কেনার জন্য কোনো পরোয়ানা প্রয়োজন নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি। এই সংকট নিরসনে সিনেটর রন ওয়াইডেন ‘গভর্নমেন্ট সার্ভেইল্যান্স রিফর্ম অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন। বিল পাস হলে বাজার থেকে ডেটা কেনার ক্ষেত্রেও আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক হবে।

নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সরকারি নজরদারি নিয়ন্ত্রণের এই বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রে এখন সরব হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এ প্রক্রিয়া ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্নও উত্থাপন করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত