১৭ বছরের চাপের অবসান, মুক্তি পেয়েছেন রুমিন ফারহানা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ বার
রুমিন ফারহানা

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সম্প্রতি জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক চাপ ও দলের ভেতরের নানা হেনস্তা থেকে তিনি অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি মনে করেন, দলের ভেতরের বড় নেতাদের চেয়ে নিজের উচ্চ জনপ্রিয়তার কারণে তিনি টার্গেট ছিলেন এবং এটাই তার বহিষ্কারের অন্যতম কারণ।

একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনায় রুমিন ফারহানা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও কারাবরণের কারণে রাজনৈতিকভাবে ক্রমশ দুর্বল হওয়ার সময়ে দলের ভেতরে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘যারা আমার ওপর নাখোশ ছিল, তারা আমাকে হিংসা করত। মূলত পদধারী বড় নেতাদের চেয়ে আমার জনপ্রিয়তা বেশি হওয়ার কারণে আমি টার্গেটে পরিণত হই।’

রুমিন ফারহানা আরও জানান, দলের একজন সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে একটি ব্যর্থ দলকে ডিফেন্ড করার যে চাপ ছিল, তা মানসিকভাবে বহন করা সহজ ছিল না। ‘বিভিন্ন নির্বাচনের সময় টকশোতে উপস্থাপকরা মুচকি হেসে প্রশ্ন করতেন—এবার কী করবেন? এই চাপ বহন করা মোটেও সহজ ছিল না,’ তিনি বলেন। বহিষ্কারের পর তিনি নিজেকে মানসিকভাবে ‘হালকা’ অনুভব করছেন এবং মনে করছেন, অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নয়, দলের ভেতরের একটি অংশও তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেছে। ‘অনলাইনে বড় নেতাদের খুশি করতে কিছু লোক আমাকে তাচ্ছিল্য ও অপমান করত। শুধু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই নয়, বিএনপির ভেতরের অনলাইন গ্রুপের আক্রমণেরও শিকার হয়েছি,’ রুমিন ফারহানা দাবি করেন।

রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক যাত্রা বিএনপির জন্য সমর্থন ও বিপর্যয়ের মিশ্রণ। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দলের অভ্যন্তরীণ চাপ, নির্বাচনী দায়িত্ব ও সামাজিক মানসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেক সময় মানসিক চাপ সহ্য করতে হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলীয় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলে একই দিনে দলের স্থায়ী কমিটির সভায় রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করা হয়।

এছাড়া, রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই পদক্ষেপও দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, দলের ভেতরের রাজনীতির সঙ্গে নিজের উচ্চ জনপ্রিয়তা মিলিত হয়ে তাকে টার্গেট করেছে এবং তাকে বহিষ্কারের পথে ধাবিত করেছে।

রুমিন ফারহানার অভিজ্ঞতা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ, যেখানে জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের প্রতিকূল পরিস্থিতি কিভাবে এক নেতার রাজনৈতিক যাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, দলের বাইরে এসে নিজের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও মানসিক শান্তি ফিরে পেয়েছেন। ‘এই দল থেকে বের হয়ে আজ আমি যেন সেই চাপ ও হেনস্তা থেকে মুক্তি পেয়েছি,’ রুমিন ফারহানা বলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রুমিন ফারহানার এই মুক্তি কেবল ব্যক্তিগত মুক্তি নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নেতাদের মানসিক ও রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। তিনি দলীয় সীমাবদ্ধতা ও অনলাইন হুমকি থেকে বেরিয়ে নিজের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্বাধীনভাবে চালানোর সুযোগ পেয়েছেন।

রুমিন ফারহানার বক্তব্য ও অভিজ্ঞতা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে চাপ ও হেনস্তা নেতাদের উপর থাকে, তার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে। দীর্ঘদিন ধরে দলের দায়িত্ব, নেতৃত্বের চাপ এবং সমাজের নজরদারি একত্রিত হয়ে এক রাজনৈতিক নেতার মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, বহিষ্কারের পর নিজের মানসিক শান্তি, স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক দায়িত্বের ভারসাম্য ফিরে পেয়েছেন, যা তাকে নতুন রাজনৈতিক পথের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, দলীয় রাজনীতিতে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দলের অভ্যন্তরীণ শক্তি সমীকরণ ও নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক একটি নেতার রাজনৈতিক সাফল্য বা ব্যর্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের চাপের পর এখন নিজের রাজনৈতিক কাজ স্বাধীনভাবে করার সুযোগ পেয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী এবং মনোবল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত