প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঈদ উদযাপনের পর জাতীয় সংসদে এবং বাইরের রাজনীতিক মঞ্চে বিরোধী দলের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক। তিনি বলেন, সরকার যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে, তবে বিরোধী দল তা বাস্তবায়নের জন্য যেকোনো প্রচেষ্টা চালাতে পিছপা হবে না।
শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর বেরাইদ, পূর্বপাড়া জামে মসজিদ-এ ঈদুল ফিতরের নামাজের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণের বিষয়টি প্রথমেই বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা না হওয়ায় রাজনৈতিক হতাশা তৈরি হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য। তিনি আরও যোগ করেন, সরকারের কাজের মূল্যায়ন বা সমালোচনা করার জন্য এক মাস পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট নয়; তাদের আরও সময় দিতে হবে। তিনি সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর কথাও উল্লেখ করেন, যেমন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ। নাহিদ বলেন, “এগুলো অবশ্যই ইতিবাচক। আমরা তাদের গতিবিধি আরো লক্ষ করতে চাই।”
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলের এই হুঁশিয়ারি শুধু কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক ভাষণ নয়, বরং বাস্তব চাপের পূর্বাভাসও বহন করছে। সংসদে এবং সংসদের বাইরের আন্দোলন মিশ্রিত হয়ে সরকারকে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে।
রাজনীতিকরা মনে করছেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিলম্ব সরকারের ভাবমূর্তি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এনসিপি-র চিফ হুইপের এই মন্তব্য রাজনৈতিক পর্যালোচনায় কেন্দ্রীয় জায়গা দখল করেছে।
এদিকে, সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রম যেমন সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণকে বিরোধী দল স্বীকৃতি দিচ্ছে, যা রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে কিছুটা ভারসাম্য সৃষ্টি করছে। তবুও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বিরোধী দলের চাপ অব্যাহত থাকবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, ঈদের পর সংসদে এবং সংসদের বাইরের চাপ বৃদ্ধির হুঁশিয়ারি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সরকারের পদক্ষেপকে প্রভাবিত করতে পারে।