কূটনীতিককে জড়িয়ে বিতর্কে শফিকুর রহমান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬
  • ২ বার
শফিকুর রহমান

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি ভিডিও। বিদেশি কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও ট্রলের মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তবে দলটির পক্ষ থেকে বিষয়টিকে “হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোড-এ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান থেকে। সেখানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া-সহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। ইউনিসেফ এবং ইউএন ওমেন-এর বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একপর্যায়ে অতিথিদের সঙ্গে আড্ডা ও হাসিঠাট্টায় মেতে ওঠেন শফিকুর রহমান। তিনি কয়েকজনের সঙ্গে কোলাকুলি করেন, কারও কপালে চুম্বন করেন এবং খাবার টেবিলে বসা এক কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরেন। উপস্থিত কূটনীতিকদের অনেককেই এই মুহূর্তে হাস্যোজ্জ্বল ও স্বতঃস্ফূর্ত দেখা যায়।

তবে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয় ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিষয়টিকে অপ্রাসঙ্গিক আচরণ হিসেবে দেখছেন এবং ট্রল করছেন। আবার অন্য একটি অংশ এটিকে স্বাভাবিক মানবিক আচরণ বা আন্তরিকতা হিসেবে তুলে ধরছেন।

এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন, কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে আরও সংযত থাকা উচিত ছিল। অন্যদিকে কেউ মনে করছেন, এটি ছিল উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাভাবিক মেলামেশার অংশ।

বিষয়টি নিয়ে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। তিনি বলেন, ঈদের আনন্দের দিনে এমন হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ অস্বাভাবিক নয়। তার ভাষায়, আমির কূটনীতিকদের সঙ্গে রসিকতা ও খুনসুটির মাধ্যমে একটি আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিলেন এবং উপস্থিত অতিথিরাও সেটি উপভোগ করেছেন।

তিনি আরও যোগ করেন, বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। তবে যদি কারও কাছে এটি বেমানান মনে হয়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যে কোনো ঘটনা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং নানা ব্যাখ্যা তৈরি হয়। ফলে ব্যক্তিগত বা অনানুষ্ঠানিক মুহূর্তও জনসমালোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

এই ঘটনার ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটেছে। একটি স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্ত কেউ দেখছেন সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে, আবার কেউ দেখছেন প্রটোকল ভঙ্গ হিসেবে।

সব মিলিয়ে, ঘটনাটি শুধু একটি আচরণগত বিতর্ক নয়, বরং এটি দেখিয়ে দেয়—বর্তমান সময়ে জনপরিসরে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিটি মুহূর্ত কতটা নজরদারির মধ্যে থাকে।

এখন দেখার বিষয়, এই বিতর্ক কতদূর গড়ায় এবং ভবিষ্যতে জনপরিসরে আচরণগত সংযম নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা তৈরি হয় কি না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত