জাইমার ফুটবল নিয়ে বিভ্রান্তি, ব্যাখ্যা আমিনুলের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬
  • ২৮ বার

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman-এর মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তার ফুটবল খেলা এবং ইংল্যান্ডের ক্লাব Chelsea FC-এর বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে নানা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এই প্রেক্ষাপটে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করতে সামনে এসেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী Aminul Haque

সোমবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ব্যাখ্যামূলক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার আগের বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, জাইমা রহমান স্কুলজীবনে লন্ডনে পড়াশোনা করার সময় নিয়মিত ফুটবল খেলতেন এবং গোলরক্ষক হিসেবে তার ভালো দক্ষতাও ছিল। তবে এটি পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের বিষয় নয়, বরং স্কুল পর্যায়ের অভিজ্ঞতা।

দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম পরিচিত গোলরক্ষক আমিনুল হক উল্লেখ করেন, জাইমার গোলকিপিংয়ের বিষয়টি তিনি সরাসরি শুনেছিলেন তার বাবা তারেক রহমানের কাছ থেকে। সেই সূত্রেই তিনি একটি অনুষ্ঠানে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাইমার সামনে একসময় চেলসির বয়সভিত্তিক দলে খেলার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে সেটি নিশ্চিত বা দীর্ঘমেয়াদি কোনো পেশাদার সুযোগ ছিল না। বরং এটি ছিল একটি সম্ভাবনাময় পর্যায়ের অভিজ্ঞতা, যা অনেক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়।

জাইমা রহমান কেন সেই পথে এগোননি, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি। আমিনুল হক বলেন, পরিবারের সিদ্ধান্তই এখানে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল। তারেক রহমান এবং তার মা ডা. জুবাইদা রহমান চেয়েছিলেন, জাইমা যেন খেলাধুলার চেয়ে পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দেয়। ফলে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি শেষ পর্যন্ত শিক্ষাজীবনকেই অগ্রাধিকার দেন।

একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, একবার মিরপুরে ক্রিকেট খেলা দেখতে গিয়ে জাইমার সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। সেই সময় জাইমা তাকে বলেছিলেন, “আঙ্কেল, আমি কিন্তু স্কুলে আপনার মতো গোলরক্ষক ছিলাম।” এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহ এবং আত্মবিশ্বাস দুটোই ছিল।

আমিনুল হক আরও বলেন, ইউরোপের শিক্ষাব্যবস্থায় খেলাধুলা শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও সক্রিয় থাকে। জাইমা রহমানও সেই পরিবেশেই বড় হয়েছেন, ফলে তার মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। অনেকেই ধারণা করছেন, জাইমা রহমান পেশাদারভাবে চেলসির হয়ে খেলেছেন বা বড় কোনো ফুটবল ক্যারিয়ার ছিল তার। প্রতিমন্ত্রীর মতে, এই ধারণাগুলো সঠিক নয় এবং বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে অনেক সময় আংশিক তথ্যই পুরো সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এই ঘটনায়ও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে, যেখানে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা স্মৃতিচারণ পরবর্তীতে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। জাইমা রহমানের ফুটবলপ্রেম এবং স্কুলজীবনের অভিজ্ঞতা থাকলেও তা পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি একজন শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো, কোনো তথ্য গ্রহণ বা শেয়ার করার আগে তা যাচাই করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায়, সামান্য একটি বক্তব্যও বড় ধরনের বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত