বিএনপি ঘোষণা স্বাধীনতা দিবসে বিশাল দুইদিনের কর্মসূচি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৪১ বার

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহনকারী দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে নিজস্ব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করেন। ঘোষিত কর্মসূচি শুধু দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক উদ্দীপনা সৃষ্টিই করবে না, বরং জাতীয় রাজনীতিতে একটি সংগঠিত শক্তির উপস্থিতি পুনরায় প্রতিষ্ঠা করবে এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার মধুর স্মৃতি ও দেশের সার্বভৌমত্বের পেছনের দৃঢ় স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে দেশব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিএনপি। এই কর্মসূচির মূল উদ্দীপনা হচ্ছে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের গভীর তাৎপর্যকে রাজনৈতিক ভাষ্য ও নাগরিক সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের সামনে উপস্থাপন করা।

ঘোষিত কর্মসূচির প্রথম দিনে, অর্থাৎ আগামী বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই আলোচনা সভায় বিএনপির জাতীয় নেতাকর্মী ছাড়াও দেশবরেণ্য ব্যাক্তিত্বেরা উপস্থিত থাকবেন এবং তারা সকলে এ মহান দিবসটির ইতিহাস, তাৎপর্য, বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যতের জন্য রাজনৈতিক শিক্ষার আলোকে বিশদ আলোচনা করবেন। দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মনে দেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সংগ্রামের গল্পগুলো আবারও জীবন্ত করে তুলবে। স্বাধীনতা সংগ্রামে বীর শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আজকের বাংলাদেশকে স্বাধীন রাখার সংগ্রাম—এই সবকিছু নিয়ে নেতাদের ভাষণ সভাকে একটি আবেগঘন পরিবেশে পরিণত করবে।

কিন্তু কর্মসূচির মাত্র এটিই শেষ নয়। আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীরা মুক্তিযুদ্ধের মহান আদর্শকে স্মরণ করবে এবং জাতীয় ঐক্য ও স্বপ্নের সাথে নিজেদের একাত্মতা ঘোষণা করবে। পতাকা উত্তোলন শেষে দলের পক্ষ থেকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া হবে। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ভোর ৫টায় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে মহান স্বাধীনতার স্থপতি সকল বীরদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

এরপর দলের নেতারা এবং সাধারণ কর্মীরা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর ঢাকায় ফিরে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের মাজার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। এই কর্মসূচি কেবল রাজনৈতিক ভাবেই নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও মানবিক দিক থেকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, কারণ এতে গণমানুষের আবেগ ও ইতিহাসের স্মৃতিচারণ শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।

এদিন মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে একটি বিশেষ দোয়া মাহফিলও অনুষ্ঠিত হবে। এই দোয়া মাহফিল স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর আধ্যাত্মিক শ্রদ্ধা প্রকাশ করবে এবং একাত্মতায় দেশের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্বের জন্য আল্লাহর মাফ ও রহমতের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করবে। দোয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ওলামা নেতারা দেশ ও জাতির শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এর আগেরদিন থেকেই দেশব্যাপী পোস্টার ও প্রচারণামূলক উপকরণ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একটি বৃহৎ সংখ্যক ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে, যা প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়নে বিতরণ করা হবে। এই প্রচারণার লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রতিটি শ্রমজীবী, ছাত্রছাত্রী, নারী ও প্রবীণ নাগরিকদের কাছে মহান স্বাধীনতার মূল্য, এর প্রেক্ষাপট ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রদান করা।

এতে অংশগ্রহণকারী সকল ইউনিটে আলোচনা সভা, স্মৃতিসৌধ শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে। এসব কর্মসূচি উচ্চমাত্রার সংগঠিত ভাবমূর্তি ছড়িয়ে দেবে এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে একতা, দৃঢ় সংকল্প ও নৈতিক দায়িত্ববোধের উদ্দীপনা বৃদ্ধি করবে।

বিএনপি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলের শীর্ষ নেতারা সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে এই কর্মসূচিতে ব্যাপক অংশগ্রহণ করার জন্য দলীয় ভিত্তিতে অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি নয়, বরং এটি আমাদের ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি। দেশের রাজনৈতিক তথা সামাজিক প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার চেতনা রক্ষায় সংগঠিত উদ্যোগ অপরিহার্য। নেতারা বিশ্বাস করেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলের পক্ষ থেকে একটি সক্রিয় ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ পাবে, যা দেশের জনগণের মধ্যে নতুন এক উদ্যম ও আশা সৃষ্টি করবে।

জাতীয় দিবসের এই কর্মসূচির ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক মহলে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে এমন কর্মসূচি শুধু রাজনৈতিক প্রয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি গণমানুষের মধ্যে ইতিহাস পুনর্মিলন ও বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যের বার্তা বহন করবে। বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই কর্মসূচি দেশের সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় করবে এবং স্বাধীনতার যে মূল্যবোধ তারা গৃহীত করেছে, তা আর কোনো প্রান্তিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নেতারা দলের সকল স্তরের লোককে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তব জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রয়োগ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের এই কর্মসূচি শুধু কর্মসূচি নয়, বরং মানুষের মনে ইতিহাসের আলো তুলে দেওয়া এক অনন্য প্রয়াস হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত