সন্দ্বীপে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৬

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ বার
সন্দ্বীপ বিএনপি সংঘর্ষ আহত

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মগধরা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ছউল্লার হাট এলাকায় দলের কার্যালয়ে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল মগধরা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সোলাইমান বাদশা এবং উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কুলসুম বেগম খেলনা এর মধ্যে।

দু’পক্ষের বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে এক সালিশি বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ঠাকুর সহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রথমদিকে বৈঠক শান্তিপূর্ণভাবে এগোচ্ছিল। কিন্তু কথার কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি হাতাহাতি এবং সংঘর্ষের পর্যায়ে পৌঁছে। ঘটনা এমনভাবে ঘনিয়ে ওঠে যে সিনিয়র নেতারা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত বৈঠকস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন যুবদল নেতা লালচাঁদ এবং তাঁতি দল নেতা তাজুল। সংঘর্ষ চলাকালে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং অফিসের বিভিন্ন কাগজপত্র ও মালামালও নষ্ট হয়। আহতরা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উভয় পক্ষের মধ্যে ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট এবং রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধই সংঘর্ষের মূল কারণ। উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কুলসুম বেগম খেলনা সাংবাদিকদের বলেন, শান্তিপূর্ণ আলোচনার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ উস্কানিমূলক আচরণ শুরু করে এবং তাদের ওপর হামলা চালায়। তবে সোলাইমান বাদশা এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন ঠাকুরের মন্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জায়েদ নূর জানান, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উভয়পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া এলাকায় উত্তেজনা কমাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তার এলাকায় উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী মনে করছেন, দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের তদারকি না থাকায় এই ধরনের ঘটনায় শহরবাসীর জীবনও বিপন্ন হতে পারে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবও সংঘর্ষকে ত্বরান্বিত করেছে।

সংঘর্ষের ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কে পড়ে যান। স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনায় রাজনৈতিক শান্তি ও সামাজিক সমঝোতা বিনষ্ট হয়। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশি উপস্থিতি বেড়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে এবং স্থানীয় নেতারা পুনর্ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং সমঝোতার অভাবই এই ধরনের সংঘর্ষের মূল কারণ। স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বয় ও শান্তিপূর্ণ আলোচনা ছাড়া ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়। প্রশাসন ও পুলিশি তৎপরতা অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখায় কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্থানীয় জনগণও আশা করছে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিরোধকে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা হবে এবং সংঘর্ষজনিত পরিস্থিতি আর 반복 হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত