ঈদের পর চড়া, মুরগি-সবজির বাজার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৮ বার
মুরগি সবজি দাম অস্থির

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঈদের ছুটি শেষ হলেও রাজধানীর বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি প্রধান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কিছু দোকান এখনও বন্ধ রয়েছে। ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকলেও নিত্যপণ্যের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে মাংস ও সবজির বাজারে চড়া দামের প্রবণতা চোখে পড়ছে।

বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে অনেক ব্যবসায়ী এখনও পুরোপুরি দোকান খুলে বসেননি। এর ফলে সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে। পাশাপাশি যারা বাজারে আসছেন, তাদের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। তবে কমেছে না দামের প্রবণতা; বরং বেশিরভাগ পণ্যের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। মুরগি, গরু, খাসি ও অন্যান্য প্রাণিসম্পদজাত পণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ ক্রেতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের আগে থেকেই মুরগির দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি মুরগির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি প্রায় ৩০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সোনালি মুরগি এখন কেজি প্রতি ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় ৫০ টাকা বেশি। লেয়ার মুরগির দাম বেড়ে হয়েছে কেজি প্রতি ৩৫০ টাকা। দেশি মুরগি কেজি প্রতি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং ব্রয়লার মুরগির দাম দাঁড়িয়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে।

মুরগি বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। খামার থেকে বাজার পর্যন্ত মুরগি আনার খরচ আগের তুলনায় বেশি হওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি বিক্রেতা ও ক্রেতার ওপর পড়ছে। মুরগি ব্যবসায়ী দিদার বলেন, “জ্বালানি খরচ বাড়ার কারণে বাজারে মুরগির দামও বাড়ছে। সাধারণ মানুষকে এই অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।”

গরু ও খাসির মাংসের বাজারেও মূল্য আগের বাড়তি দামের সমান রয়েছে। গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের দাম কেজি প্রতি ১ হাজার ২০০ টাকার কাছাকাছি। ঈদের ছুটি শেষে সরবরাহের স্বল্পতা ও উচ্চ চাহিদা একসঙ্গে কাজ করায় এই উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে।

সবজির বাজারেও অবস্থা কম স্বস্তিদায়ক নয়। ঈদের আগের তুলনায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে, করলা ১৬০ টাকা, গোল বেগুন ১৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি, উচ্ছে ১৬০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা এবং লাউ ৮০ টাকায়। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা এবং শিম ৩০-৪০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।

তবে সব পণ্যের দাম সমানভাবে বেড়ে যায়নি। পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৩৫ টাকা, আর আলুর দাম কেজি প্রতি ২০ টাকা হিসেবে টিকে আছে। বিক্রেতারা জানান, ঈদের পর বাজারে সরবরাহ ঠিকমতো না হওয়ায় অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারের চড়া দামও খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

জেলা ও বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে ঢাকায় প্রবেশকারী ক্রেতাদের সংখ্যাও এখনো পুরোপুরি ফিরেনি। ব্যবসায়ীরাও এখনো প্রত্যেকটি দোকান খুলে বসেননি। সরবরাহে এই ঘাটতি মূলত দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। বাজার স্থিতিশীল করতে সময় এবং সচেতন উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজার পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার জন্য প্রশাসনিক নজরদারি, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি এবং ভোক্তাদের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে এই পরিস্থিতিতে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে রাজধানীজুড়ে মাংস ও সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থা ও বাজার তদারকির প্রচেষ্টা চলছে। তারা ক্রেতাদের যাতে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য কিনতে না হয়, তার জন্য নজরদারি চালাচ্ছে। তবে সরবরাহ ঠিকমতো না হওয়ায় চড়া দামের প্রবণতা পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারের অস্থিরতা সাময়িক। সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য পুনঃস্থাপন হলে দাম স্থিতিশীল হবে। তবে ক্রেতাদের জন্য এই সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকা জরুরি, যাতে তারা অযাচিতভাবে বেশি দাম দিয়ে পণ্য কিনতে না হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত