প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতে এক যুগান্তকারী কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান আর নেই। ৯২ বছর বয়সে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন সংগীতশিল্পী রুমানা ইসলাম। বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন মাহবুবা রহমান। শুক্রবার তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে এবং বাদ জুমা মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
১৯৩৫ সালে চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া মাহবুবা রহমান অল্প বয়সে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত হন। মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ঢাকা কেন্দ্র থেকে তার গান প্রথমবার সম্প্রচারিত হয়, যা তাকে শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি এনে দেয়। পঞ্চাশ ও সত্তরের দশকে রেডিও ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে মাহবুবা রহমান অন্যতম ছিলেন। বিশেষ করে পল্লিগীতি ও আধুনিক গানে তার কণ্ঠের মাধুর্য দেশব্যাপী সমাদৃত হয়েছিল।
দেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ সমর দাসের সুরে গাওয়া গান ‘মনের বনে দোলা লাগে’ তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি। এছাড়া তিনি ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’, ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’সহ অসংখ্য গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার গাওয়া নেপথ্য গানের তালিকায় রয়েছে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘কখনো আসেনি’, ‘সূর্যস্নান’, ‘সোনার কাজল’, ‘রাজা সন্ত্রাসী’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘সাত ভাই চম্পা’সহ বহু চলচ্চিত্র।
মাহবুবা রহমানের কণ্ঠ শুধু জনপ্রিয়তার জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংগীত সংস্কৃতির ইতিহাসে অনন্য অবদান হিসেবে চিহ্নিত। তার সুর ও সঙ্গীতের ছোঁয়া প্রজন্ম পর প্রজন্ম শ্রোতার মনে জীবন্ত থাকবে। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কণ্ঠশিল্পীর মৃত্যুতে শিল্পী মহল, গানের প্রেমিক ও সাধারণ জনগণ শোকাহত।
তার প্রয়াণ দেশের সংগীত ও চলচ্চিত্রের জগতে এক শূন্যতার সৃষ্টি করল। তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাধর শিল্পী, যার গান আজও নতুন প্রজন্মের মধ্যে জীবন্ত এবং অনুপ্রেরণার উৎস। শিল্পী মাহবুবা রহমানের কণ্ঠ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অমর অংশ হয়ে থাকবে।