প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও তীব্র বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। যশোরে এক স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেন এবং দলটির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
শনিবার বিকেলে যশোর শহরের শহীদ সুধীর ঘোষ সড়ক এলাকায় একাত্তরের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত শিশু চিত্রাঙ্কন ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, শহীদদের অবদান এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তবে মূল আলোচনায় স্থান পায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অতীতের অভিজ্ঞতা।
নার্গিস বেগম তার বক্তব্যে বলেন, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীল করার পেছনে যেসব শক্তি কাজ করেছিল, তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী অন্যতম ছিল। তার ভাষায়, “তারা গড়তে জানে না, তারা শুধু ভাঙে।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন এবং দলের কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের উস্কানি, মব সৃষ্টি কিংবা অন্যায় দাবির কাছে নতি স্বীকার করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে হলে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
বক্তব্যে তিনি বৈশ্বিক পরিস্থিতির দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবেলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং অযথা বিভাজন সৃষ্টি না করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের উদাহরণ তুলে ধরেন। তার মতে, সেই সময় দেশে খাদ্যের ঘাটতি যতটা ছিল, তার চেয়েও বড় সমস্যা ছিল সঠিক বণ্টন ব্যবস্থার অভাব। ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেবব্রত ঘোষ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারুন অর রশিদ, সাংবাদিক সাজেদ রহমান, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এবং বিষ্ণু সাহা প্রমুখ। বক্তারা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শিশুদের অংশগ্রহণে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে নার্গিস বেগম নিজ হাতে পুরস্কার তুলে দেন, যা অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশু ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নার্গিস বেগমের এই বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে। তার বক্তব্যে যেমন অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাসের উল্লেখ রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তা। ফলে এটি কেবল একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, যশোরের এই অনুষ্ঠানটি একদিকে শহীদদের স্মরণ ও নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্রয়াস, অন্যদিকে দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে আরও সুসংগঠিত করার প্রয়োজনীয়তা।