৩৮ দিনের ছুটি শেষে খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৫ বার

প্রকাশ: ২৯ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটিয়ে আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে ফিরেছে দেশের শিক্ষা অঙ্গন। পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৩৮ দিনের ছুটি শেষে রোববার থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পেরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মধ্যে দেখা গেছে নতুন উদ্দীপনা ও কর্মচাঞ্চল্য।

এবারের ছুটি শুরু হয়েছিল গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে। সরকারি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৬ মার্চ পর্যন্ত ছুটি থাকার কথা থাকলেও, মাঝখানে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় তা গড়িয়ে ২৯ মার্চ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা একটানা ৩৮ দিনের একটি দীর্ঘ অবকাশ উপভোগ করার সুযোগ পায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম দীর্ঘ ছুটির মধ্যে পড়ে।

ছুটি শেষে প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। অনেকেই নতুন বই, খাতা আর ব্যাগ নিয়ে ক্লাসে ফিরেছে উৎসাহ নিয়ে। দীর্ঘ বিরতির পর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়া, শিক্ষকদের সঙ্গে পুনর্মিলন—সব মিলিয়ে দিনটি ছিল অনেকের জন্য আনন্দময়।

শিক্ষকদের জন্যও এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ছুটির পর দ্রুত পাঠক্রমে ফিরতে হচ্ছে তাদের। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছে, ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে সিলেবাস শেষ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষকেরা বলছেন, ছুটির কারণে পড়াশোনার যে বিরতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এখন বাড়তি মনোযোগ ও পরিশ্রম প্রয়োজন।

বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা একটি বড় কাজ। অনেক শিক্ষার্থীই দীর্ঘ ছুটিতে পড়াশোনা থেকে দূরে ছিল, ফলে তাদের আবারও পাঠে মনোযোগী করতে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘ ছুটি যেমন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিশ্রামের সুযোগ দেয়, তেমনি এটি পাঠক্রমে কিছুটা চাপও তৈরি করে। তাই ছুটি শেষে দ্রুত সময় ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পিত পাঠদান অত্যন্ত জরুরি। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস সম্পন্ন করা যায়।

অভিভাবকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ মনে করছেন, দীর্ঘ ছুটি শিশুদের জন্য উপকারী ছিল, আবার কেউ বলছেন, এত দীর্ঘ বিরতিতে পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়েছে। তবে সবাই একমত যে, এখন থেকে নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

শিক্ষার্থীদের অনুভূতিও ছিল বৈচিত্র্যময়। কেউ বলছে, ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় একটু খারাপ লাগছে, আবার অনেকেই বন্ধুদের সঙ্গে আবার দেখা হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে ছোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আনন্দ ছিল বেশি দৃশ্যমান।

শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ের শিক্ষাব্যবস্থায় ছুটি ও পাঠদানের মধ্যে একটি ভারসাম্য রাখা প্রয়োজন। দীর্ঘ ছুটি শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে সতেজ রাখে, কিন্তু একই সঙ্গে তা শিক্ষার ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিকল্পিত শিক্ষা ক্যালেন্ডার এবং কার্যকর বাস্তবায়নই হতে পারে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মূল উপায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ৩৮ দিনের দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও শুরু হয়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। নতুন উদ্যমে পাঠদান, পরীক্ষা এবং শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই নতুন শুরুর মধ্য দিয়েই আবারও গড়ে উঠবে শিক্ষার স্বাভাবিক ছন্দ—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত