মিরপুরে এসি বিস্ফোরণে চার জন দগ্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
মিরপুরে এসি বিস্ফোরণে চার মিস্ত্রি দগ্ধ

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর একাডেমিক ভবনের রান্নাঘরের পাশে এসি মেরামতের সময় বিস্ফোরণে চারজন মিস্ত্রি দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে ঘটে এই দুর্ঘটনা। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদেরকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন আল মামুন (৩১), সুজন (৩১), রাসেল আহমেদ (৪৫) এবং সেলিম (৩০)। তারা চারজনই এসি মেরামতের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। আহতরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার মুহূর্তে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার রান্নাঘরের পাশে এসি মেরামত করছিলেন। বিস্ফোরণ ঘটার আগে কম্প্রেশার মেশিন খুলে রাখা হয়েছিল এবং বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ ছিল। তবে হঠাৎ করেই মেশিন থেকে বিস্ফোরণ ঘটে, যা চারজন মিস্ত্রিকে ঝলসে দেয়।

বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তাদের পুড়ে যাওয়া জখম গুরুতর। প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি তাদেরকে প্রয়োজনীয় বার্ন সার্জারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে তাদের মনিটর করা হচ্ছে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্নও উত্থাপন করেছে। মেরামতকাজ চলাকালীন বিস্ফোরণ হওয়ায় দেখা যায়, যদিও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল, তারপরও কম্প্রেশার মেশিনের মধ্যে থাকা চাপজনিত কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের নিরাপত্তা এবং শ্রমিকদের সুরক্ষা সংক্রান্ত দিকগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

উপজেলার স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও মিস্ত্রিরা প্রায়ই ভবনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশে মেরামত কাজ করে থাকেন। যদিও সাধারণত তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে কাজ করেন, এই ঘটনায় তা যথেষ্ট ছিল কি না তা এখন তদন্তের বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর ও প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

আহতদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর তারা দ্রুত হাসপাতালে এসে আহতদের সেবা নিশ্চিত করেছেন। আহতদের মধ্যে আল মামুন ও সুজনের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানা গেছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের পুড়ে যাওয়া অংশে বার্ন সার্জারি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলমান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য নিরাপত্তা বিধি আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের, কর্মচারী ও মিস্ত্রিদের সুরক্ষার জন্য পৃথক নির্দেশিকা জারি করা হবে।

এই ধরনের দুর্ঘটনা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। একই সঙ্গে এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরা, কর্মচারী ও স্থানীয়রা সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্বের বিষয়েও সচেতন হয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত