উদ্দীপনায় শুরু এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২০ বার
উদ্দীপনায় শুরু এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬

প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সারা দেশে উৎসবমুখর কিন্তু শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। বহু প্রতীক্ষিত এই পাবলিক পরীক্ষাকে ঘিরে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা গেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রাণচাঞ্চল্য। প্রায় এক দশকের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পেরোনোর লক্ষ্যে এবার অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী, যারা দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় একযোগে শুরু হওয়া এই পরীক্ষার প্রথম দিনেই ছিল বাংলা প্রথম পত্র। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই দেশের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে ভিড় জমাতে শুরু করে পরীক্ষার্থীরা। নিয়ম অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও অনেক শিক্ষার্থীই আরও আগে এসে উপস্থিত হয়, যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।

পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর সামনে সকাল থেকেই দেখা গেছে এক ভিন্ন আবহ। কেউ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অনেকের চোখেমুখে ছিল উদ্বেগ, আবার কারও চোখে দৃঢ় প্রত্যয়। অভিভাবকদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। সন্তানদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকে ঘিরে তাদের উৎকণ্ঠা ও প্রত্যাশা যেন একাকার হয়ে উঠেছিল।

সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকে পরীক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে তাদের নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ করে। যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। লিখিত পরীক্ষার পর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে বিভিন্ন কেন্দ্রে। নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বা অন্য কোনো অনিয়ম ঠেকাতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের পরীক্ষায় সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে পরীক্ষা গ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর গোপনীয়তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে।

গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গাতেই পরীক্ষাকে ঘিরে একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থীও নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কেন্দ্রে পৌঁছে যায়। তাদের মধ্যে অনেকেই জীবনের প্রথম বড় পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে।

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা চান তাদের সন্তানরা যেন কোনো চাপ বা ভয়ের মধ্যে না থেকে স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারে। অনেকেই বলেন, ফলাফলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সৎভাবে ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষা দেওয়া। এই মানসিকতাই ধীরে ধীরে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দেখা গেছে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি। অনেকেই জানিয়েছেন, তারা শুধু ভালো ফলাফল নয়, বরং নিজেদের অর্জিত জ্ঞানকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করার লক্ষ্য নিয়েই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এই প্রবণতা শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষার প্রথম দিন শেষ হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীই স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, প্রশ্নপত্র তুলনামূলকভাবে মানসম্মত ও পাঠ্যসূচিভিত্তিক ছিল। তবে কিছু শিক্ষার্থী সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে সামান্য চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসএসসি পরীক্ষা কেবল একটি একাডেমিক মূল্যায়ন নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই পরীক্ষার মাধ্যমে তারা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের ভিত্তি তৈরি করে।

সবকিছু মিলিয়ে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে। এখন সবার প্রত্যাশা, একইভাবে সুন্দর পরিবেশে পুরো পরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারবে।

পরবর্তী দিনগুলোতে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে একই ধরনের শৃঙ্খলা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। তবে শুরুটা যেভাবে হয়েছে, তাতে আশাবাদী হওয়াই যায় যে এবারের পরীক্ষাও সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত