প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি জায়ান্ট Apple-এ নেতৃত্বের বড় পরিবর্তন আসছে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন টিম কুক। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন অ্যাপলের দীর্ঘদিনের শীর্ষ নির্বাহী জন টার্নাস, যিনি কোম্পানির হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টার্নাস আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যাপলের নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে টিম কুক কোম্পানির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগে ভূমিকা রাখবেন।
Tim Cook ২০১১ সালে সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব নেওয়ার পর অ্যাপলের নেতৃত্বে আসেন। এরপর থেকে তিনি কোম্পানিকে এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যান। তার নেতৃত্বে অ্যাপল প্রযুক্তি দুনিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিগুলোর একটিতে পরিণত হয়।
তার সময়েই অ্যাপল প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য অতিক্রম করে, যা পরে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। স্মার্টফোন, ওয়্যারেবল ডিভাইস এবং সার্ভিস খাতে অ্যাপলের আধিপত্য আরও সুসংহত হয় এই সময়েই।
নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া John Ternus দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে অ্যাপলের সঙ্গে যুক্ত। তিনি কোম্পানির হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং অ্যাপলের বহু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন।
টার্নাসের নেতৃত্বে অ্যাপলের আইপ্যাডের বিভিন্ন সংস্করণ, আইফোনের একাধিক প্রজন্ম, এয়ারপডস এবং অ্যাপল ওয়াচের মতো জনপ্রিয় পণ্যগুলো উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এছাড়া ম্যাক কম্পিউটারে অ্যাপলের নিজস্ব সিলিকন চিপ ব্যবহারের বড় পরিবর্তন প্রক্রিয়াও তিনি তদারকি করেছেন, যা কোম্পানির প্রযুক্তিগত ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
টিম কুক জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে অ্যাপলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জন টার্নাসই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি। তার মতে, টার্নাস শুধু একজন দক্ষ প্রকৌশলীই নন, বরং একজন দূরদর্শী ও সৎ নেতৃত্বের গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তি, যিনি অ্যাপলকে আরও এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।
তিনি আরও বলেন, অ্যাপলের নেতৃত্ব দেওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য ছিল। দায়িত্ব হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়ায় তিনি গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত টার্নাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন, যাতে নেতৃত্ব পরিবর্তন মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়।
অ্যাপলের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে সাবেক চিফ অপারেটিং অফিসার জেফ উইলিয়ামসের প্রস্থান এবং শীর্ষ নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের উত্থান এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছিল বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে জন টার্নাস নিজেও টিম কুককে তার পরামর্শদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অ্যাপলের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আশাবাদী এবং কোম্পানির উদ্ভাবনী যাত্রা আরও এগিয়ে নিতে কাজ করবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নেতৃত্ব পরিবর্তন অ্যাপলের ভবিষ্যৎ কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অগমেন্টেড রিয়েলিটি এবং হার্ডওয়্যার উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুন গতি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টিম কুকের সময়কালকে অ্যাপলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সময়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আইফোনের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য, সার্ভিস খাতের বিস্তার এবং বাজারমূল্যের অভূতপূর্ব বৃদ্ধি তার নেতৃত্বের প্রধান সাফল্য হিসেবে দেখা হয়।
এখন কোম্পানিটি যখন নতুন যুগে প্রবেশ করছে, তখন জন টার্নাসের ওপর বড় দায়িত্ব পড়েছে অ্যাপলকে আরও প্রতিযোগিতামূলক প্রযুক্তি বাজারে এগিয়ে নেওয়ার। বিশেষ করে গুগল, মাইক্রোসফট এবং অন্যান্য প্রযুক্তি জায়ান্টদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চ্যালেঞ্জও তার সামনে থাকবে।
সব মিলিয়ে, অ্যাপলের এই নেতৃত্ব পরিবর্তন শুধু একটি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে জন টার্নাসের নেতৃত্বে অ্যাপল কীভাবে নতুন যুগে প্রবেশ করে, সেটির দিকে।