প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও গতির ঝড় তুলে আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে বদলে গেছে ম্যাচের চিত্র, আর সেই পারফরম্যান্সে সিরিজে সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ।
২৩ বছর বয়সী এই পেসার ৩২ রানে ৫ উইকেট শিকার করে কিউই ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দেন। তার গতি, নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক বোলিং ম্যাচজুড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটের দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
ম্যাচের পুরো সময়জুড়ে মিরপুরে তাপমাত্রা ছিল ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে টানা গতি ধরে রাখা অনেক বোলারের জন্য কঠিন হলেও নাহিদ রানার ক্ষেত্রে তা ছিল আলাদা গল্প। তিনি প্রায় প্রতিটি বলই ১৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার বেশি গতিতে করেছেন, যা ম্যাচে আলাদা মাত্রা যোগ করে।
ম্যাচ শেষে নাহিদ রানা বলেন, উন্নত ফিটনেসই তাকে এই গরমেও একই গতি ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, তিনি নিয়মিত ফিটনেস ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি কোচ ও ফিজিওদের সঙ্গে কাজ করছেন যাতে ম্যাচে ক্লান্তি তার পারফরম্যান্সে প্রভাব না ফেলে। তার মতে, প্রস্তুতি যত ভালো হবে, মাঠে তত বেশি ধারাবাহিক থাকা যায়।
এই তরুণ পেসারের মতে, তার মূল লক্ষ্য ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দলের জয় নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, একটি ভালো ওভার দিয়েও যদি দলের জয়ে অবদান রাখা যায়, সেটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন। তার কাছে উইকেট নেওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দলকে জয় এনে দেওয়া।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচে নাহিদের পারফরম্যান্স ছিল ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার। এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন।
ম্যাচে নাহিদের বোলিংয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল তার ধারাবাহিক গতি এবং বৈচিত্র্য। পুরো স্পেলে একটি বল ছাড়া সব বলই ১৪০ কিলোমিটার গতির ওপরে ছিল। শুধু নিক কেলির বিরুদ্ধে করা একটি ধীরগতির বল ছিল ব্যতিক্রম, যা ছিল ১১২ কিলোমিটার গতির স্লোয়ার ডেলিভারি।
তার ইয়র্কার নিয়েও ম্যাচ শেষে আলোচনা হয়। এই অস্ত্রটি এখন তার বোলিংয়ের অন্যতম শক্তি হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, তিনি নিয়মিত অনুশীলনে ইয়র্কার উন্নত করার চেষ্টা করেন এবং কোচদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন যাতে ম্যাচে তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায়।
বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইট-এর তত্ত্বাবধানে নাহিদ তার স্কিল উন্নয়নে কাজ করছেন। তিনি মনে করেন, আধুনিক ক্রিকেটে শুধু গতি নয়, বৈচিত্র্য এবং নিয়ন্ত্রণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নাহিদ রানার উন্নতি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও সন্তুষ্ট। তার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট নিয়ে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে যাতে দীর্ঘমেয়াদে ইনজুরির ঝুঁকি কমে। ফিজিও ও পারফরম্যান্স টিম তার প্রতিটি ম্যাচ ও অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি নিজেও ইনজুরি নিয়ে সচেতন। নাহিদ বলেন, ইনজুরি কখনো আগাম জানান দেয় না, তাই প্রস্তুতি ও শরীরের যত্নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, তিনি সবসময় ফিট থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সব অনুশীলন করেন, যার মধ্যে জিম, দৌড় এবং রিকভারি সেশন অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে পেস আক্রমণে নাহিদ রানা এখন বড় ভরসার নাম হয়ে উঠছেন। তার গতি, আত্মবিশ্বাস এবং ম্যাচ সচেতনতা দলের পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদের মতো তরুণ পেসার বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করছে। তার ধারাবাহিক উন্নতি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স শুধু একটি জয় নয়, বরং নাহিদ রানার আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনার নতুন বার্তা। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকে প্রাধান্য দেওয়া এই তরুণ পেসার এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠছেন