আবারও কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত?

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৬ বার
স্বর্ণের দাম কমলো বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বাজারে একদিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমার প্রভাব এবং স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে মূল্য সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত কমেছে স্বর্ণের দাম।

বুধবার সকালে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন মূল্য তালিকা আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্য পরিবর্তনের প্রবণতা স্পষ্ট হলো, যা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর পরিবর্তন হওয়ায় দেশীয় বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে স্বর্ণের দাম পুনঃনির্ধারণ করতে হয়েছে।

এর আগে মাত্র একদিন আগে, ২৮ এপ্রিল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সেদিনও ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। ধারাবাহিক এই মূল্য পরিবর্তন স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও অস্থিরতা তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশীয় বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ডলারের মূল্য পরিবর্তন, বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ—সব মিলিয়ে বাজারে এই ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

চলতি বছর দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্য সমন্বয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৫৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩২ বার দাম বেড়েছে এবং ২৬ বার কমেছে। অর্থাৎ বাজারে প্রায় নিয়মিতভাবেই মূল্য পরিবর্তনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

২০২৫ সালেও এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট ছিল। সে বছর মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস পায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা একটি স্থায়ী চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে স্বর্ণের দাম কমলেও দেশের বাজারে রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায়।

রুপা বাজারেও চলতি বছর উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত ৩৬ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ বার দাম বেড়েছে এবং ১৭ বার কমেছে। ২০২৫ সালেও রুপার বাজারে ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ছিল দাম বৃদ্ধির দিকে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণ ও রুপার দামের এই ঘন ঘন পরিবর্তন শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তারও প্রতিফলন। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা অনেক সময় দাম বাড়ার কারণ হয়। আবার আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য পরিবর্তিত হলে দ্রুত দাম কমেও যায়।

দেশীয় বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই পরিবর্তন কিছুটা জটিলতা তৈরি করছে। বিশেষ করে বিয়েশাদি ও উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটায় স্বর্ণের দাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে নিয়মিত মূল্য পরিবর্তনের কারণে ক্রেতারা অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়ছেন।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সমন্বয় প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও পূর্বাভাসযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে ক্রেতারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে মূল্য ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে যাতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।

সব মিলিয়ে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম হলেও দেশের বাজারে এই ধাতুর মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই আগামী দিনে স্বর্ণের দাম কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত