প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রিয়াল মাদ্রিদে আবারও কোচ পরিবর্তনের গুঞ্জন ঘনীভূত হচ্ছে। ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সফল ক্লাবটি চলতি মৌসুমে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ডাগআউট ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও কোপা দেল রে থেকে আগেই বিদায় নেওয়ার পর লা লিগার শিরোপা দৌড় থেকেও কার্যত ছিটকে পড়েছে দলটি। এমন অবস্থায় কোচ আলভারো আরবেলোয়ার ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
মৌসুমের শুরুতেই শাবি আলনসো দায়িত্ব ছেড়ে দিলে আরবেলোয়া দায়িত্ব নেন। তবে তার অধীনে দল প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি। পরিসংখ্যানেও তা স্পষ্ট, আলনসোর তুলনায় তার জয়ের হার কম এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যর্থতা বাড়ছে। বিশেষ করে ঘরোয়া লিগে ধারাবাহিক পয়েন্ট হারানো সমর্থকদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একটি নাম—জোসে মরিনিয়ো। অভিজ্ঞ এই পর্তুগিজ কোচ এক সময় রিয়াল মাদ্রিদকে শাসন করেছেন। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তার অধীনে লস ব্লাঙ্কোস লা লিগা, কোপা দেল রে এবং সুপার কাপ জিতেছিল। সেই সময় তার কঠোর শৃঙ্খলা ও ড্রেসিংরুম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে মরিনিয়ো বেনফিকার দায়িত্বে থাকলেও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা থামছে না। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াল মাদ্রিদের মতো বড় ক্লাব সবসময়ই এমন কোচ খোঁজে যিনি শুধু কৌশলগতভাবে নয়, মানসিকভাবেও দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আর সেই জায়গায় মরিনিয়োর নাম বারবার সামনে আসছে।
তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। ক্লাবের ভেতরের তথ্য অনুযায়ী, মরিনিয়ো একমাত্র বিকল্প নন। বরং এটি এক ধরনের সম্ভাব্য ‘ওয়াইল্ডকার্ড’ আলোচনা। রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ সবসময় এমন কোচ পছন্দ করেন যিনি ড্রেসিংরুমে শক্ত অবস্থান রাখতে পারেন এবং বড় তারকাদের পরিচালনা করতে সক্ষম হন।
পেরেজের নেতৃত্বে রিয়াল মাদ্রিদে কোচ নিয়োগের ইতিহাসও তা প্রমাণ করে। জিনেদিন জিদান বা কার্লো আনচেলত্তির মতো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কোচরা তার আস্থাভাজন ছিলেন। অন্যদিকে কৌশলনির্ভর কিন্তু কম প্রভাবশালী কোচরা বেশি দিন টিকে থাকতে পারেননি।
এই প্রেক্ষাপটে মরিনিয়োর নাম আবার আলোচনায় এসেছে। তার ব্যক্তিত্ব, অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে চাপ সামলানোর ক্ষমতা ক্লাব কর্তৃপক্ষের নজর কাড়ছে। তবে একই সঙ্গে তার অতীতের কিছু বিতর্কিত আচরণ এবং কঠোর স্টাইল নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পেরেজ এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। বরং বিভিন্ন নাম সামনে এনে প্রতিক্রিয়া যাচাই করছেন তিনি। মরিনিয়োর পাশাপাশি আলোচনায় আছেন মাউরিসিও পোচেত্তিনো, দিদিয়ের দেশম, মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি এবং ইয়ুর্গেন ক্লপের মতো কোচরাও।
পোচেত্তিনো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকায় তার যোগদান সময়সাপেক্ষ হতে পারে। দেশম আবার ফ্রান্স জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত এবং বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার চুক্তি রয়েছে। আলেগ্রিকে অভিজ্ঞ ও ভারসাম্যপূর্ণ কোচ হিসেবে দেখা হলেও ক্লপের ক্ষেত্রে প্রশ্ন রয়েছে তার আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শন নিয়ে, যা রিয়ালের বর্তমান পরিকল্পনার সঙ্গে কতটা মানানসই হবে তা নিয়ে সংশয় আছে।
এদিকে মরিনিয়োর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে অনেকে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত হিসেবেও দেখছেন। কারণ তিনি একদিকে যেমন সফল, অন্যদিকে তার কড়া ব্যবহারের কারণে ক্লাবের ভেতরে বিভাজন তৈরির ইতিহাসও রয়েছে।
তবুও ফুটবল দুনিয়ায় এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এই সম্ভাবনা ঘিরে। সমর্থকদের একাংশ মনে করেন, রিয়ালের বর্তমান সংকট কাটাতে অভিজ্ঞ এবং শক্ত হাতে পরিচালনাকারী কোচই প্রয়োজন, যেখানে মরিনিয়ো হতে পারেন উপযুক্ত পছন্দ।
অন্যদিকে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, আধুনিক ফুটবলের দ্রুত পরিবর্তিত কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে নতুন প্রজন্মের কোচদের দিকেই ঝুঁকতে পারে রিয়াল মাদ্রিদ।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি অনিশ্চিত। মরিনিয়ো সত্যিই ফিরবেন কি না, নাকি এটি কেবল ফুটবল বাজারের আরেকটি গুঞ্জন—তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে একথা নিশ্চিত যে, রিয়াল মাদ্রিদের কোচিং চেয়ারে বসার দৌড় এবার আবারও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে।