প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের উদীয়মান পেসার নাহিদ রানাকে ঘিরে নতুন করে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে ক্রিকেট অঙ্গনে। শুরুতে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি না পাওয়ায় পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনালে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে ছাড়পত্র দিয়েছে। ফলে পেশোয়ার জালমির হয়ে পিএসএলের ফাইনালে অংশ নিতে পাকিস্তানে যাচ্ছেন এই তরুণ গতিতারকা।
চলতি মৌসুমে পেশোয়ার জালমির হয়ে দারুণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আলোচনায় উঠে আসেন নাহিদ রানা। গত আসরে দলে থাকলেও একাদশে সুযোগ না পাওয়া এই পেসারের ওপর এবারও আস্থা রেখেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। নিলামে প্রায় ৬০ লাখ রুপিতে তাকে দলে ভেড়ায় পেশোয়ার জালমি। মৌসুমের শুরুতে খুব বেশি আলো ছড়াতে না পারলেও সময়ের সঙ্গে নিজের গতি ও নিয়ন্ত্রিত বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের চাপে ফেলেছেন তিনি।
বিশেষ করে করাচি কিংসের বিপক্ষে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেওয়ার পারফরম্যান্স নাহিদকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে ৭ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। তার ইকোনমি রেটও ছিল চোখে পড়ার মতো, মাত্র ৫.৪২। তরুণ বয়সেই এমন নিয়ন্ত্রিত বোলিং অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের নজর কেড়েছে।
তবে পিএসএলে ভালো ছন্দে থাকার মাঝেই জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের জন্য দেশে ফিরতে হয়েছিল নাহিদকে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে অংশ নিতে তাকে দেশে ডেকে নেয় বিসিবি। সেই সিরিজেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। তিন ম্যাচের সিরিজে ৮ উইকেট শিকার করে সিরিজসেরার পুরস্কার জেতেন বাংলাদেশের এই পেসার। তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যেও নতুন আশার জন্ম দিয়েছে।
নিউজিল্যান্ড সিরিজ শেষে আবারও পিএসএলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু সামনে জাতীয় দলের পাকিস্তান সফর থাকায় শুরুতে তাকে এনওসি দিতে অনাগ্রহ দেখায় বিসিবি। এতে পেশোয়ার জালমির ফাইনালে নাহিদকে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এরই মধ্যে কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পেশোয়ার জালমি। দলটির লক্ষ্য ছিল শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ ধরে রাখা, আর সে কারণেই নাহিদ রানাকে ফেরানোর জন্য বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
অবশেষে পেশোয়ার জালমির মালিক জাভেদ আফ্রিদির অনুরোধে সাড়া দিয়ে নাহিদ রানাকে ছাড়পত্র দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিসিবি ও বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ধন্যবাদ জানান জাভেদ আফ্রিদি। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, পিএসএলের ফাইনালে নাহিদ রানাকে খেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য তামিম ভাইকে ধন্যবাদ।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পিএসএলের মতো বড় মঞ্চে নাহিদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে পারলে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হতে পারেন।
পেশোয়ার জালমির হয়ে ফাইনালে খেলার সুযোগ নাহিদের ক্যারিয়ারের জন্যও বড় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তারকাখচিত এই টুর্নামেন্টে চাপের ম্যাচে পারফর্ম করার সুযোগ একজন তরুণ ক্রিকেটারের মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
আগামী ৩ মে অনুষ্ঠিত হবে এবারের পিএসএলের ফাইনাল। সেখানে পেশোয়ার জালমির প্রতিপক্ষ হতে পারে মুলতান সুলতানস, হায়দরাবাদ কিংসম্যান অথবা ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নাহিদের উপস্থিতি দলের বোলিং আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করছে জালমি সমর্থকরা।
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত অংশগ্রহণ দেশের ক্রিকেটের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে খেলোয়াড়রা যেমন অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ছে। নাহিদ রানার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সেই ধারাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।
সব মিলিয়ে, পিএসএলের ফাইনালে নাহিদ রানার অংশগ্রহণ শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের তরুণ পেস বোলিং প্রজন্মের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠছে। এখন দেখার বিষয়, ফাইনালের বড় মঞ্চে নিজের গতি ও দক্ষতা দিয়ে আরেকবার আলো ছড়াতে পারেন কি না এই তরুণ পেসার।