বৃহস্পতিবার প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র অনুষ্ঠিত হবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯ বার
প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ‘ড্র

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের লাখো ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীর জন্য আবারও আসছে প্রাইজবন্ডের ড্র। ১০০ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশ প্রাইজবন্ডের ১২৩তম ড্র অনুষ্ঠিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল। এই ড্রকে ঘিরে ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ স্বল্প বিনিয়োগে বড় অঙ্কের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনার কারণে প্রাইজবন্ড দীর্ঘদিন ধরেই দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি সঞ্চয়মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।

সরকারের জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত এই প্রাইজবন্ড ব্যবস্থা মূলত মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি কেবল সঞ্চয়ের মাধ্যমই নয়, বরং অনেকের কাছে এক ধরনের আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। অল্প টাকায় প্রাইজবন্ড কিনে বড় পুরস্কার জেতার স্বপ্নই সাধারণ মানুষের আগ্রহ ধরে রেখেছে বছরের পর বছর।

এবারের ১২৩তম ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে একজন বিজয়ী পাবেন ৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে থাকছে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া তৃতীয় পুরস্কারে ১ লাখ টাকা, চতুর্থ পুরস্কারে ৫০ হাজার টাকা এবং পঞ্চম পুরস্কারে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘোষিত নম্বরের প্রতিটি সিরিজের একই সংখ্যার সব প্রাইজবন্ড পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র বা অন্যান্য বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রাইজবন্ড সাধারণ মানুষের কাছে একটি সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত সঞ্চয়ব্যবস্থা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কারণ এটি যেকোনো সময় কেনা বা ভাঙানো যায় এবং মূল অর্থ হারানোর ঝুঁকি নেই। বিশেষ করে যারা অল্প অল্প করে সঞ্চয় করতে চান, তাদের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক।

বর্তমানে দেশে শুধুমাত্র ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন মূল্যমানের প্রাইজবন্ড থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন একমাত্র ১০০ টাকার প্রাইজবন্ডই বাজারে সক্রিয় রয়েছে এবং চার মাস পরপর নিয়মিত ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ড্রয়ের নির্ধারিত তারিখের ৬০ দিন আগে পর্যন্ত বিক্রি হওয়া প্রাইজবন্ডগুলোই ড্রয়ের আওতায় আসে। অর্থাৎ যারা সাম্প্রতিক সময়ে প্রাইজবন্ড কিনেছেন, তাদের অনেকের বন্ড এবারও ড্রয়ের জন্য বিবেচিত হবে।

তবে পুরস্কার জিতলেও পুরো অর্থ হাতে পাওয়া যায় না। বর্তমান আয়কর আইন অনুযায়ী, প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থ থেকে উৎসে ২০ শতাংশ কর কেটে রাখা হয়। ফলে বিজয়ীরা নির্ধারিত অর্থের কিছু অংশ কর হিসেবে পরিশোধ করে থাকেন। তারপরও সাধারণ মানুষের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সঞ্চয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাইজবন্ডের জনপ্রিয়তার বড় কারণ এর সহজলভ্যতা ও সরকারি নিশ্চয়তা। ব্যাংক বা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে খুব সহজেই এটি কেনা যায়। একইসঙ্গে এটি এমন একটি সঞ্চয়পদ্ধতি যেখানে মূলধন হারানোর ঝুঁকি নেই, আবার বড় অঙ্কের পুরস্কার পাওয়ার সুযোগও থাকে।

প্রাইজবন্ডের ড্রকে কেন্দ্র করে অনেকের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ড্রয়ের আগে বিভিন্ন ব্যাংক শাখা ও সঞ্চয় অফিসে প্রাইজবন্ড কেনাবেচা কিছুটা বেড়ে যায়। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত প্রাইজবন্ড কিনে আসছেন শুধুমাত্র ভবিষ্যতে বড় পুরস্কার পাওয়ার আশায়।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষুদ্র সঞ্চয় সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে একটি স্থিতিশীল তহবিল গড়ে তুলতে পারে। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট বিনিয়োগ একত্রিত হয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

প্রাইজবন্ডের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশে সঞ্চয় প্রবণতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই কার্যক্রম চালু করা হয়। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি ও আর্থিক ব্যবস্থার পরিবর্তন এলেও প্রাইজবন্ড এখনও মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর প্রাইজবন্ডের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্ধারিত দিনে সরকারি ছুটি বা সাপ্তাহিক বন্ধ থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র আয়োজন করা হয়। এবারের ড্র নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রাইজবন্ড নিয়ে আলোচনা বাড়তে দেখা গেছে। অনেকেই পুরোনো অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন, আবার কেউ কেউ নতুন করে প্রাইজবন্ড কেনার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। সব মিলিয়ে, ১২৩তম ড্রকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

প্রাইজবন্ড কেবল একটি আর্থিক পণ্য নয়, বরং অনেকের কাছে এটি ছোট ছোট স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার একটি মাধ্যম। হয়তো কোনো সাধারণ পরিবারের জন্য একটি পুরস্কার বদলে দিতে পারে জীবনের বাস্তবতা। আর সেই সম্ভাবনাই বছরের পর বছর ধরে মানুষের আগ্রহ ধরে রেখেছে এই সঞ্চয় ব্যবস্থার প্রতি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত