শিশু নিরাপত্তায় ব্যর্থ ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার
ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম শিশু নিরাপত্তা

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে আবারও কঠোর নজরদারির মুখে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডিজিটাল পরিষেবা আইন লঙ্ঘন করেছে বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ তুলেছে ইইউ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ইউরোপীয় কমিশনের দীর্ঘ দুই বছরের তদন্তের পর এই প্রাথমিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। তদন্তে বলা হয়েছে, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ ঠেকাতে মেটা পর্যাপ্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এখন নতুন করে চাপে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি জায়ান্টটি।

ইইউর ডিজিটাল পরিষেবা আইন অনুযায়ী বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে, যাতে তারা তাদের প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর কনটেন্ট, অবৈধ কার্যক্রম এবং বিশেষ করে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। কিন্তু তদন্তকারীদের মতে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বর্তমান বয়স যাচাই ব্যবস্থা এই লক্ষ্য পূরণে যথেষ্ট নয়।

ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ শিশু ১৩ বছরের নিচে থেকেও নিয়ম ভেঙে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছে। এটি শুধু নীতিমালা লঙ্ঘন নয়, বরং শিশুদের মানসিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইইউর প্রযুক্তি বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা হেনা ভিরকুনেন এক বিবৃতিতে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম বয়সসীমা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর নীতিমালা শুধু কাগজে থাকা উচিত নয়, বরং তা বাস্তবে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান ও কার্যকর হতে হবে।

শিশুদের অনলাইন উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের অতিরিক্ত সময় ব্যয়, অনুপযুক্ত কনটেন্টের সংস্পর্শে আসা এবং মানসিক প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছেন।

তবে মেটা এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ইতিমধ্যে বয়স যাচাই ও কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট শনাক্ত ও অপসারণে একাধিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে আরও উন্নত ও কঠোর নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

মেটা আরও দাবি করেছে, অনলাইনে বয়স যাচাই করা একটি জটিল ও শিল্পব্যাপী চ্যালেঞ্জ। শুধুমাত্র একটি প্রতিষ্ঠানের একক প্রচেষ্টায় এটি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য তারা প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য কোম্পানি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযোগ মেটার জন্য শুধু আইনি ঝুঁকি নয়, বরং বৈশ্বিক সুনাম ও ব্যবহারকারীর আস্থার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যেভাবে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে আরও কঠিন নিয়মের মুখোমুখি হতে পারে মেটাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।

ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এখন বৈশ্বিক একটি জরুরি ইস্যু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজ প্রবেশাধিকার থাকলেও সেখানে বয়স নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। নইলে অল্প বয়সী ব্যবহারকারীরা ভুল তথ্য, অনুপযুক্ত কনটেন্ট এবং অনলাইন হয়রানির ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ইইউ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে মেটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে মেটার ওপর তাদের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য আর্থিকভাবে বড় চাপ তৈরি করবে।

বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রশ্ন। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে ইইউর এই অভিযোগ সেই বিতর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত