আগামীকাল দেশজুড়ে শুরু নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৯ বার
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রজন্মকে খুঁজে বের করা এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। শনিবার (২ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাওয়া এই বৃহৎ ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ। সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই উদ্যোগকে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’-এর অনুপ্রেরণায় গড়ে ওঠা এই আধুনিক সংস্করণটি মূলত শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে একটি রাষ্ট্রীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। লক্ষ্য হলো শুধু খেলোয়াড় তৈরি নয়, বরং শৃঙ্খলাবদ্ধ, আত্মবিশ্বাসী এবং নেতৃত্বগুণসম্পন্ন একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির সূচনা করবেন তারেক রহমান। একইসঙ্গে সারাদেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতে থাকা হাজারো অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোর এই উদ্বোধনী পর্বের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। মাঠ পর্যায়ের এই একযোগে অংশগ্রহণকে আয়োজকেরা ক্রীড়া ঐক্যের একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

এই কর্মসূচির আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। খেলাধুলার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রতিযোগিতার কাঠামো। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার এবং মার্শাল আর্টসহ মোট আটটি ইভেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে প্রতিযোগীরা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এবার অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় এক লাখ ষাট হাজারেরও বেশি শিশু-কিশোর অংশ নিতে নিবন্ধন করেছে, যা এই উদ্যোগের প্রতি ব্যাপক আগ্রহের প্রমাণ বহন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশগ্রহণকারী এসেছে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায় থেকে, যা তৃণমূল প্রতিভা খুঁজে পাওয়ার লক্ষ্যকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলছে।

ক্রীড়া পরিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিযোগিতার কাঠামো অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বাছাই সম্পন্ন হবে, এরপর উপজেলা, জেলা এবং আঞ্চলিক ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। পুরো দেশকে দশটি ক্রীড়া অঞ্চলে ভাগ করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিভা সমানভাবে মূল্যায়িত হয়।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয় বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে প্রতিভা তুলে আনার জন্য স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ধাপে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জন্য প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম এবং উৎসাহমূলক ভাতা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি প্রতিযোগীদের জন্য সনদপত্র ও বিশেষ স্বীকৃতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এবং বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ফুটবল, ক্রিকেট এবং অ্যাথলেটিক্সের মতো জনপ্রিয় খেলাগুলোতে নতুন প্রতিভার আগমন জাতীয় দলের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। মাঠ পর্যায়ে যথাযথ অবকাঠামো, প্রশিক্ষক সংকট এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার অভাব এই উদ্যোগের সফলতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত না হলে অনেক সম্ভাবনাই হারিয়ে যেতে পারে।

তবুও সরকারের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে যে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনে একটি টেকসই ভিত্তি তৈরি হবে। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং তরুণ প্রজন্ম মোবাইল ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে বেরিয়ে মাঠমুখী হবে।

সব মিলিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু প্রতিভা অন্বেষণের আয়োজন নয়, বরং একটি জাতীয় ক্রীড়া আন্দোলনের সূচনা, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত