প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা নিয়ে মাউশির জরুরি নির্দেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ৭ বার
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২৬ (এনএইচএসপিসি) সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রচার-প্রচারণা ও শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা এই প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দেশের সব স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা প্রধানদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মাউশি এই নির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, আগামীকাল শনিবার (২ মে) রাত ১২টার মধ্যে প্রতিযোগিতার প্রচার কার্যক্রম এবং অনলাইন নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনোভাবেই নিবন্ধন গ্রহণ করা হবে না বলে নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) আয়োজনে এবারের জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে হাইস্কুল, মাদরাসা, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রোগ্রামিং দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

মাউশির চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ১৬ মে দেশব্যাপী আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই পর্যায়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ধাপে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার সুযোগ পাবে। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে সহজেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবে।

মাউশির নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। শ্রেণিকক্ষ, নোটিশ বোর্ড, ডিজিটাল মাধ্যম এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে সর্বাধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে উৎসাহিত হয়।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন উদ্যোগ দেশের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমান বিশ্বে প্রোগ্রামিং ও আইসিটি দক্ষতা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় একটি যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই এই ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরি করা সময়োপযোগী উদ্যোগ।

তাদের মতে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের ধারাবাহিকতায় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করবে। বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান, যৌক্তিক চিন্তাভাবনা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মাউশির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতাটি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ে কঠোর মনিটরিং করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দেশনা উপেক্ষা করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

অন্যদিকে, অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের এমন প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে এবং প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ আরও বাড়াবে।

এদিকে প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে তারা প্রোগ্রামিংয়ের মৌলিক ধারণা অর্জন করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিযোগিতা শুধু একটি আয়োজন নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ আইটি খাতের ভিত্তি গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যদি এই ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চালু থাকে, তবে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ প্রোগ্রামার ও সফটওয়্যার ডেভেলপার তৈরির সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে।

সব মিলিয়ে, মাউশির এই জরুরি নির্দেশনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে নতুন গতি যোগ করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম সম্পন্ন হলে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২৬ আরও সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত