হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে বাড়ছে চাপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬
  • ১১ বার
হামে শিশু মৃত্যু বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে একদিনেই ১ হাজার ২৮৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

শুক্রবার (১ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১৫ জন শিশু। চলমান প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এই সংখ্যা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৪৬ জনে। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি, যা এখন পর্যন্ত ২৩১ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের দ্রুত সংক্রমণ সাধারণত টিকাদানের ঘাটতি, স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সতর্কতার অভাবের কারণে আরও বিস্তার লাভ করে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। ৫ এপ্রিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়। এরপর ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হয়। পরবর্তীতে ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এই কার্যক্রম চালু করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার কাজ করছেন। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেখানে অতিরিক্ত মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ শিশুকে দ্রুত টিকার আওতায় আনা এবং সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনো চ্যালেঞ্জিং। একদিকে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে হাসপাতালে শয্যার সংকট এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদাও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

চিকিৎসকরা অভিভাবকদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি টিকা না নেওয়া শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করার ওপরও তারা জোর দিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শুধুমাত্র টিকাদান নয়, বরং ব্যাপক জনসচেতনতা কার্যক্রমও জরুরি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য শিক্ষা বাড়াতে হবে, যাতে মানুষ সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করে।

অন্যদিকে, কিছু এলাকায় এখনো টিকা গ্রহণে অনীহা এবং গুজবের কারণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব বাধা দূর করতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে হামের এই প্রাদুর্ভাব এখন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ, জরুরি টিকাদান কর্মসূচি এবং মাঠপর্যায়ের তৎপরতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত