সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর সফর, উন্নয়নে নতুন আশা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২ মে, ২০২৬
  • ৫ বার
সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর সফর, উন্নয়নে নতুন আশা

প্রকাশ: ২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে এসে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নতুন করে উন্নয়নের প্রত্যাশা জাগিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অবতরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ এই সফর।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা—সবাই এক ধরনের প্রত্যাশা ও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন এই সফরের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চনার অভিযোগ থাকা এই অঞ্চলের মানুষ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী যান হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারতে। আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই স্থানটি সিলেটবাসীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে তিনি দেশের শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন। সফরের এই অংশটি ছিল ধর্মীয় ও মানবিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, যা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এক ধরনের আত্মিক সংযোগ তৈরি করে।

এরপর সকাল ১১টায় নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভোগা সিলেট নগরীর বাসিন্দাদের জন্য এই প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী যান সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও এলাকায়, যেখানে তিনি বাসিয়া খাল খননকাজের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষি খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা মনে করছেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে জমিতে পানি জমে থাকার সমস্যা কমবে এবং ফসল উৎপাদন বাড়বে।

বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়াম-এ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই আয়োজনটি তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণ ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতার জন্য নয়, বরং মানসিক বিকাশ ও শৃঙ্খলা গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এরপর বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি-তে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। সেখানে তিনি স্থানীয় উন্নয়ন, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে সিলেট নগরীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা এবং জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি বসানো হয় একাধিক চেকপোস্ট। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনও সফরকে সফল করতে বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সিলেট জেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আলোকসজ্জার পরিবর্তে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিচ্ছন্নতা ও সীমিত সৌন্দর্যবর্ধনে, যা পরিবেশবান্ধব একটি উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, সিলেট দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তারা যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীও একই ধরনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে সিলেটের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে, যা অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই সফর নিয়ে রয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা। অনেকেই মনে করছেন, সিলেটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই অঞ্চল নতুন করে এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার আশা করছে।

সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। সংক্ষিপ্ত এই সফর হলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে সিলেটের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই সফরের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি সিলেটের দিকে আরও নিবদ্ধ হবে এবং দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম নয়, বরং এটি সিলেটের মানুষের জন্য একটি নতুন আশার বার্তা। উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং অগ্রগতির পথে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত