প্রকাশ: ২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে গিয়ে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবহে সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) সকালে তিনি ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করেন। এই জিয়ারতকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে এক ধরনের ধর্মীয় আবেগ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে তিনি সরাসরি যান হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে।
সাড়ে ১০টার দিকে মাজারে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী দরগাহ শরিফের পবিত্র পরিবেশে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মাজার জিয়ারত করেন এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও জনগণের কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেন। এই সময় মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও ভক্তদের মধ্যেও ছিল গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার পরিবেশ। অনেকেই দূর থেকে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই আধ্যাত্মিক মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করেন।
হযরত শাহজালাল (র.) মাজার শুধু একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং এটি বাংলাদেশ-এর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শত শত বছর ধরে এই মাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি বিশেষ ধর্মীয় ঐতিহ্য, যা দেশের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষের কাছে সমানভাবে শ্রদ্ধার জায়গা। প্রধানমন্ত্রীর এই জিয়ারত তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক ধরনের আধ্যাত্মিক সংযোগের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
মাজার জিয়ারতের পর প্রধানমন্ত্রী তার ব্যস্ত সফরসূচি অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। সকাল ১১টায় তিনি যান নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায়, যেখানে সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সিলেট নগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা ছিল জলাবদ্ধতা, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে যেত। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এরপর দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও এলাকায় বাসিয়া খাল খননকাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়াম-এ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তার। এই আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করার একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন আয়োজন কেবল খেলাধুলার বিকাশ নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এরপর বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি-তে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি স্থানীয় উন্নয়ন, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে। দলীয় নেতাকর্মীরাও এই সভাকে কেন্দ্র করে নিজেদের বিভিন্ন মতামত ও প্রত্যাশা তুলে ধরবেন।
সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। সংক্ষিপ্ত এই সফরের মধ্য দিয়ে সিলেটের উন্নয়ন, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম একসঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে সফরের সূচনা হওয়ায় এটি একটি আধ্যাত্মিক গুরুত্বও পেয়েছে।
সফরকে কেন্দ্র করে পুরো সিলেট শহরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়। একইসঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করা হয়, যাতে সফর নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সফরের প্রতিটি অংশ সফলভাবে সম্পন্ন করতে সমন্বিতভাবে কাজ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও আগ্রহও ছিল উল্লেখযোগ্য, যা এই সফরকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং ধর্মীয় ঐতিহ্য, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনগণের প্রত্যাশার এক মিলিত প্রতিফলন। হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সফর সিলেটবাসীর মনে নতুন আশা ও প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে।