মে মাসে প্রথম ১০ দিনে ১২৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ১৬ বার
১২৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চলতি মে মাসের প্রথম ১০ দিনেই দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, এই সময়ে দেশে এসেছে ১২৮ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

মঙ্গলবার (১২ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহকে নির্দেশ করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে মে মাসের প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরও জানান, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৬১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এটি গত বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি, যা প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিকে নির্দেশ করে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ, এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি আস্থা বৃদ্ধিও এই প্রবণতাকে শক্তিশালী করেছে।

এর আগে গত এপ্রিলে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, আর মার্চ মাসে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড। অর্থনীতিবিদদের মতে, ওই সময় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।

ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স আসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ডলার এবং জানুয়ারিতে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার। একইভাবে ডিসেম্বর মাসে আসে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, আর নভেম্বর মাসে আসে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগস্ট ও জুলাই মাসে এই অঙ্ক ছিল যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কিছুটা কমছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় ও ডলারের চাহিদা ব্যবস্থাপনায়ও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী আয় দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনেক পরিবার এই অর্থের ওপর নির্ভরশীল, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

তারা আরও বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ টেকসই রাখতে হলে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুবিধাজনক করতে হবে। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রার ওঠানামা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ এই প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে।

সব মিলিয়ে মে মাসের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহে যে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে, তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত