কিউবার ওপর হামলার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ১২ বার
কিউবা যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা হামলার আশঙ্কা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কিউবার ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবা সরকারের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপের দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি হামলার ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে বিভিন্ন কৌশলগত পদক্ষেপ সেই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। ১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত হয়নি। সেই সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করলে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ আরোপ করে এবং বিশ্ব প্রায় পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হলেও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি।

এক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর নজরদারি বিমান অভিযান বাড়িয়েছে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি থেকে এই তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে আরোপ করা হয়েছে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা, যা কিউবার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে এবং এটিকে এক ধরনের সামষ্টিক শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিউবা সরকার দাবি করছে, এসব পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, কিউবা সরকারের কিছু নীতি এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক অবস্থান ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কিউবার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্র সন্দেহের চোখে দেখছে। কারণ ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবা দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি সহায়তা পেয়ে আসছিল, যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ব্যাহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি মার্কিন রণতরীকে কিউবার কাছাকাছি মোতায়েন করার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হয়, এই ধরনের সামরিক উপস্থিতি কিউবার ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতে পারে।

তবে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিও রয়েছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় কিউবায় হামলার কোনো সরাসরি পরিকল্পনার কথা শোনেননি। এর ফলে পরিস্থিতি নিয়ে দ্বৈত বার্তা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আরও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশল মূলত চাপ সৃষ্টির অংশ, যাতে কিউবা সরকার নীতি পরিবর্তনে বাধ্য হয়। তবে সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু কিউবা নয়, পুরো লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

কিউবা ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি ঘাটতি এবং সামাজিক চাপের মধ্যে রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। দেশটির জনগণের মধ্যে জীবনযাত্রার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এই নীতি নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কিছু আইনপ্রণেতা মনে করছেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ না নিয়ে সামরিক চাপ বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে কিউবার সঙ্গে সংঘাত এড়ানোই শ্রেয় বলে মত দিচ্ছেন তারা।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিউবা সংকট নতুন করে বিশ্ব রাজনীতিতে শীতল যুদ্ধকালীন উত্তেজনার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। যদিও এখন পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, তবে পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে তা অত্যন্ত সংবেদনশীল।

সব মিলিয়ে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বর্তমান টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। কূটনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত