সীমান্তে কাঁটাতার নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ৮ বার
সীমান্ত কাঁটাতার আলোচনা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সীমান্ত এলাকায় নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ইস্যুতে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা ‘পুশইন’ বন্ধ করাই সরকারের মূল অগ্রাধিকার।

মঙ্গলবার (১২ মে) আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ওই ব্রিফিংয়ে ঈদকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সীমান্ত পরিস্থিতি, হাট ব্যবস্থাপনা এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কথা বলেন তিনি।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কূটনৈতিকভাবে সমাধানের পথ খোঁজা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনা করা হবে। আমাদের মূল উদ্বেগ হলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত দিয়ে যেন কোনো ধরনের পুশইন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।”

সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতার ভিত্তিতেই সব ধরনের সমস্যা সমাধান করা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সামলানো সম্ভব হবে।

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, কোরবানির পশুর হাটগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি হাটে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

চাঁদাবাজি ও অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোরবানির মৌসুমে চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ যেন না থাকে, সেজন্য বিশেষ নজরদারি থাকবে। কোথাও এমন ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিকদেরও এ বিষয়ে তথ্য দিতে একটি হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঈদের আগের ও পরের সাত দিন এই সেল সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা বাহিনী সক্রিয় থাকবে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়ক, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও পশুর হাটগুলোতে বাড়তি নজরদারি থাকবে।

পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়েও তথ্য দেন তিনি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি পশুর হাট বসবে বলে জানান মন্ত্রী। এসব হাটে নিরাপত্তা, যান চলাচল এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে এবার সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এ জন্য বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করতে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো চামড়া শিল্পে ক্ষতি কমানো এবং মৌসুমি বাজার ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখা।

শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদের আগে সব গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি থেকে শুরু করে ঈদকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন ঈদ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে উদযাপন করা সম্ভব হবে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত