নাট্যজন আতাউর রহমানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ৪ বার
আতাউর রহমান মৃত্যু নাট্যজন

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন হারাল তার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকাকে। স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রথিতযশা নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরে দেশের শিল্পাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক ও শূন্যতার অনুভূতি।

সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান এবং অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার হঠাৎ নিজ বাসভবনে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন আতাউর রহমান। ঘটনার পরপরই তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় পরে ধানমন্ডির আরেকটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে এবং একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করছে না।

পরবর্তীতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। কিছু সময়ের জন্য অবস্থার সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও পরে আবারও জটিলতা বাড়ে। রবিবার পুনরায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার পর দুই দিনের ব্যবধানে শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আতাউর রহমান বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করা এই গুণী শিল্পী দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি একাধারে নাট্যকার, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক হিসেবে কাজ করেছেন।

তার হাত ধরেই বাংলাদেশের আধুনিক মঞ্চনাট্য আরও সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ হয়েছে বলে মনে করেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকে। নাট্যশিল্পে নতুন ভাবনা, গবেষণাধর্মী উপস্থাপনা এবং সমাজ-বাস্তবতাভিত্তিক নাট্যচর্চার বিকাশে তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও তার অবদানের স্বীকৃতি এসেছে বারবার। তিনি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পদক এবং একুশে পদকে ভূষিত হন। দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য নাটক রচনা ও নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি নতুন প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠেন।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ঢল নামে। সহকর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও অনুরাগীরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নানা স্মৃতিচারণ করেন। অনেকেই বলেন, আতাউর রহমান ছিলেন শুধু একজন নাট্যব্যক্তিত্ব নন, তিনি ছিলেন একটি যুগের প্রতিনিধি, যিনি মঞ্চনাটককে চিন্তা ও চেতনার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

অভিনেতা রওনক হাসান এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আতাউর রহমান ছিলেন আমাদের পথপ্রদর্শক। তার কাছ থেকে শেখা মূল্যবোধ ও নাট্যচিন্তা আমাদের জীবনের অংশ হয়ে থাকবে। তার মৃত্যু বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

দেশের নাট্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে আতাউর রহমানের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি শুধু একজন শিল্পী নন, বরং বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের একটি শক্ত ভিত্তি ছিলেন।

তার মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিন অনুভূত হবে বলে মনে করছেন সহকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। তবে তার সৃষ্টিশীল কাজ, চিন্তাধারা ও অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত